লকডাউনে এক শিক্ষিকার বসতঘর দখল করে ভবন নির্মাণ কর্ণফুলীতে

আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ১:১০ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২৩ মে, ২০২০ শনিবার ০১:০৯ পিএম

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার জুলধা ইউনিয়নের ফকিরনীরহাট এলাকার সুফিয়া আক্তার নামে এক শিক্ষিকার বসত ভিটা দখল করে লকডাউনেও ভবন নির্মাণ চলছে – এমনই অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে

অভিযুক্তরা হলেন, একই থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুনাফ জমাদার বাড়ির মৃত মো. নাজেমের স্ত্রী জোহরা ও তার দুই পুত্র সিরাজুল হক লিটন ও এনামুল হক, একই এলাকার মৃত বদিউল আলমের পুত্র ওবায়দুল হক রনি ও মো. ইউসুফ এবং তার স্ত্রী তামান্না বেগম।

জানা যায়, ওই জায়গা নিয়ে একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও আইনের তোয়াক্কা না করে জোর করে লকডাউনের মধ্যে ভবন নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন অভিযুক্তরা।

২০১৯ সালের ৯ জানুয়ারি স্থানীয় ব্রাক স্কুলের শিক্ষিকা সুফিয়া আক্তারের জায়গার কিছু অংশ দখলের চেষ্টা করলে থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। ওই সময় অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি বৈঠকের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা জায়গার ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আশ্বাস দেবে বলে একটি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে সমঝোতা হয় উভয়পক্ষের মধ্যে- জানান ভুক্তভোগী সুফিয়া।

আরও পড়ুন: লকডাউনেও ইপিজেড-পতেঙ্গাজুড়ে চলছে ভবন নির্মাণকাজ!

এদিকে সমঝোতা এক বছর পরও ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উল্টো নিমার্ণ কাজ অব্যাহত রাখায় চলতি বছরের ১১ মার্চ চট্টগ্রামের পটিয়ার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন সুফিয়া আক্তার। এতে আদালতে মামলা চলাকালীন সময়ে করোনাভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতিতেও লকডাউন উপেক্ষা করে ঘর নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে।

ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষিকা সুফিয়া আক্তার বলেন, ‘এই জায়গাটুকু আমাদের শেষ সম্বল। এখানে কোনোমতে অসুস্থ স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছি। কিন্তু আমার এই শেষ সম্বল টুকুও জোর করে দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে এনামুল হক, ওবাইদুল হক, ইউসুফ, জোহরা, তামান্না বেগম। এর আগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করলে সেই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা আমার জায়গায় অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্তদের মধ্যে ওবাইদুল হক রনি নামের ব্যক্তি একজন পুলিশ সদস্য। মূলত তার প্রভাব খাটিয়ে গায়ের জোরেই এসব কাজ চলছে।’

আরও পড়ুন: বেপরোয়া মাইক্রোবাসের ধাক্কায় সাংবাদিক আহত

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, ‘এটা ইউএনও বলতে পারবে। অভিযোগ তো তাঁদের কাছেও গেছে। ইউএনও আছে, এসি ল্যান্ড আছে তাদের কাছ থেকে বক্তব্য নেন।’

লকডাউনের মধ্যে বিচারাধীন জায়গায় কিভাবে ঘর নির্মাণ হচ্ছে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘এটি তো থানার ওসি ভালো জানবে। ওনাকে জিজ্ঞেস করেন।’

সিটিজিসান ডটকম/সিএস/আরএইচ

Print This Post Print This Post