হিলভিউ আবাসিক কল্যাণ সমিতি

নামজারি বন্ধের প্রতিবাদে স্মারকলিপি দিল দুশত পরিবার

আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৫ ৯:৪২ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার হিলভিউ আবাসিক এলাকার দুশত অধিক ভূমি মালিকের নামজারি স্থগিতের প্রতিবাদ ও ভূমির নামজারি ‍নিয়ে গণমাধ্যমে ‘অপ্রচার’ বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে হিলভিউ আবাসিক কল্যাণ সমিতি।

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে স্মারকলিপি প্রদান দেন সমিতির সভাপতি মো. সফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জহুরুল আলম। এ সময় সংগঠনের অন্তত ত্রিশ ভূমির মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ থানার অংশজুড়ে গড়ে ওঠা সিডিএ অনুমোদিত হিলভিউ আবাসিকে ৪৫ বছর ধরে ৪০০টির অধিক প্লটে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। ৫৮ একর আয়তনের এ আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় ভুগছেন তারা ‍

ভূমির ইতিহাস তুলে ধরে স্মারকলিপিতে জানানো হয়, জায়গাটি প্রথমে আরএস খতিয়ান ১৪৯১ অনুযায়ী অবলা সুন্দরী দেবীর নামে ছিলো। ১৯৭৫-৭৮ সালের মধ্যে এটি পিএস খতিয়ানে মোছাম্মৎ আনজুমান্ননেসার নামে অন্তর্ভূক্ত হয়। পরে বিএস খতিয়ানে জমির মালিক হিসেবে ‘হিলভিউ হাউজিং কোম্পানি’র নাম উঠে আসে।

১৯৯৫ সালে প্লট বরাদ্দ পাওয়া মালিকেরা ১৮০৫/১-১৪৯টি খতিয়ানের ভিত্তিতে নিয়মিত ভূমি কর পরিশোধ করলেও পরে পাঁচলাইশের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আন্তঃবিভাগীয় চিঠির ভিত্তিতে নামজারি ও খাজনা আদায় স্থগিত করেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট (৬২৯৬/২০০৫) দায়ের করা হলে ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর আদালত নামজারি স্থগিতাদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেন।

রায় পাওয়ার পর ১২৩ জন ভূমি মালিক নামজারি আবেদন করলে প্রশাসন দুটি মামলার ( ৮৪/২০০০ ও ৫৯৮/২০১০) অজুহাতে তা খারিজ করে। তবে ২০২০ সালে মামলাগুলোর একটি (৫৯৮/২০১০) খারিজ হয়ে যায় ও আপিলে ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় বহাল রাখে।

এরপর দুই শতাধিক প্লটের নামজারি নিষ্পত্তি করা হয় এবং পাশপাশি খাজনা আদায়ও নিয়মিত চলছিলো। কিন্তু সম্প্রতি একটি ‘স্বার্থান্বেষী মহল’ নতুন করে নানা অজুহাতে নামজারি প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে বলে স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়।

হিলভিউ আবাসিক কল্যাণ সমিতির নেতারা বলেন, কোনো বৈধ আইনি ভিত্তি ছাড়াই ভূমি মালিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। এতে করে আরও ২০০ এর বেশি প্লট মালিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তারা দ্রুত নামজারি প্রক্রিয়া চালুর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলের অপপ্রচার বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

Print This Post Print This Post