চসিক মেয়রকে লন্ডনে সম্মাননা, বৃদ্ধাশ্রমে ১০০ কোটি তহবিলের ঘোষণা

আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১০:৪১ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরীর মাত্র ১২ মাসে তিন দশকের জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগের স্বীকৃতি পেলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ব্যক্তিগত সফরে লন্ডন অবস্থানকালে তাঁকে ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন’ প্রদান করেছে চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডন। একই সঙ্গে সমিতির পক্ষ থেকে চট্টগ্রামে একটি আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম ও হেলথ কেয়ার সেন্টার নির্মাণে ১০০ কোটি টাকার ফান্ড রেইজের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

৯ নভেম্বর লন্ডনের চাটগাঁ হাউজে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে চট্টগ্রামের দীর্ঘ ৩০ বছরের জলাবদ্ধতার অবসান ঘটাতে মেয়রের ভূমিকার প্রশংসা জানায় প্রবাসী সংগঠনটি। সেখানে উপস্থিত সমিতির নেতারা বলেন, জলাবদ্ধতার মতো দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এক বিরল অর্জন।

আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণে জমি দেওয়ার ঘোষণা

সম্মাননা গ্রহণকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, চট্টগ্রামে নিরাশ্রয় ও অসহায় প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম ও ডেডিকেটেড হেলথ কেয়ার সেন্টারের প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছিল। তিনি বলেন, চসিকের অধীনে স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল থাকলেও প্রবীণদের জন্য আলাদা কোনো আবাসন বা চিকিৎসা সুবিধা গড়ে ওঠেনি।

এ সময় তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৪০ শতক জমি দেওয়ার ঘোষণা দেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডনের যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

লন্ডনে লর্ড মেয়রের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক

১৪ নভেম্বর লন্ডনের বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলে লর্ড মেয়রের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন চসিক মেয়র। বৈঠকে তিনি চট্টগ্রামের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার, নগর নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীল শহর গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে দুই নগরের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয়পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চসিকের দেওয়া তথ্যানুসারে, ৭ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়ে পরদিন কাতার এয়ারওয়েজে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেন মেয়র। আগামী ২১ নভেম্বর তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

৯ নভেম্বর এক বিবৃতিতে চসিক জানিয়েছে, মেয়রের লন্ডন সফরের পুরো ব্যয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করছেন। এর আগে টরেন্টো সফরেও সরকারি বা কারো কাছ থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা নেননি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও চসিকের গাড়ি বা জ্বালানি ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন—বিবৃতিতে এ তথ্যও জানানো হয়।

চসিক আরও জানায়, মেয়রের বিদেশ সফরকালে প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করবেন চসিকের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন।

সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, সফরসংক্রান্ত যেকোনো বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

Print This Post Print This Post