ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা, বন্দরে গতি ফিরল

আপডেট: ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১:২০ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রমজানের পণ্য খালাস নির্বিঘ্ন রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা শ্রমিক ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকনের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ধর্মঘট স্থগিত হওয়ার পর সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি, ইয়ার্ড, শেড, টার্মিনাল এবং বহির্নোঙরে লাইটারিংসহ সব কার্যক্রম সচল হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী বর্তমান সরকারের আমলে এ বিষয়ে কোনো চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সন্তোষজনক আলোচনা হওয়ায় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত থাকবে। তবে পাঁচটি সমস্যার সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

পাঁচটি সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—বন্দর কর্তৃপক্ষের পাঁচ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার ও হয়রানিমূলক মামলা, ১৫ কর্মচারীকে বিভিন্ন বন্দরে হয়রানিমূলক বদলি, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বাসা বরাদ্দ বাতিল এবং ১৬ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা।

এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে আট ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে দুই দিন আট ঘণ্টা করে এবং তিন দিন টানা কর্মবিরতি চলে। নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে তখন দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল।

সর্বশেষ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে চার দাবিতে বন্দরের জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল ও বহির্নোঙরে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক ধর্মঘট শুরু করে পরিষদ। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়ার ঘোষণা, বর্তমান চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে কর্মচারীদের নিজ নিজ পদে পুনর্বহাল। ওইদিন দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান। একইদিন ঢাকায় ব্রিফিং করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ও বিডার চেয়ারম্যান।

Print This Post Print This Post