সরকারের নিষেধ অমান্য

লকডাউনেও ইপিজেড-পতেঙ্গাজুড়ে চলছে ভবন নির্মাণকাজ!

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ০৬ মে, ২০২০ বুধবার ০২:০১ পিএম

সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লকডাউনেও থেমে নেই ভবন নির্মাণকাজ। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিদিনই অলি-গলির ভেতরে চলছে নির্মাণকাজ। সেখানকার নির্মাণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি না মেনেই চলছে নির্মাণকাজ। তাই বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি। শুধু তাই নয়, শ্রমিকদের অবাধ চলাফেরায় আতঙ্কে রয়েছেন সেখানকার স্থানীয়রা।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। লকডাউনের ভেতরেও ভবন নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

সরেজমিনে শুক্রবার ও শনিবার টানা দুইদিন ইপিজেড-পতেঙ্গা এলাকা ঘুরে মুসলিবাদ রোডে হাফিজুর রহমানের স্কুলের পাশে ছয়তলা ভবন, হাফিজুর রহমানের পূর্বপাশে দুইতলা ভবন, পশ্চিম মুসলিবাদ মসজিদের পাশে একতলা ও মুসলিমাবাদ বেঁড়িবাধ সংলগ্ন জিলানী নগর এলাকায় একটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণকাজ করতে দেখা গেছে। এছাড়া নেতারগলি, খেঁজুরতলা, ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট ও নিউমুরিং রোডেও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতন করার পরও একশ্রেণীর সুবিধাবাদী শ্রেণী সরকারের আদেশ না মেনে লকডাউনে চালাচ্ছে ভবন নির্মাণকাজ। মানছে না সেখানে স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোন নিয়ম। প্রতিদিন অন্য এলাকা থেকে এসেই কাজ করছেন শ্রমিকরা। এসব শ্রমিকদের নির্বিচারে চলাফেরা ও বিচরণ করায় এলাকার তৈরি হচ্ছে করোনা ঝুঁকি। বিষয়টি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তাঁরা৷

এবিষয়ে জানতে চাইলে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া সিটিজিসানকে বলেন, ‘যদি ভবন ১ জন শ্রমিক দিয়ে জরুরি মেরামতের জন্য কাজ করানো হয় তাহলে সেটা ঠিক আছে৷ তবে একাধিক শ্রমিক দিয়ে নির্মাণকাজ করালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে৷’

ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হুদা সিটিজিসানকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি দেখছি৷ সেখানে এখনই ফোর্স পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলে দিচ্ছি৷’

উল্লেখ্য এর আগে গত ০১ মে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পতেঙ্গা থানার মুসলমাবাদের বেঁড়িবাধ সংলগ্ন জিলানী নগরের সেমিপাকা ঘরের নির্মাণকাজ নিয়ে ‘পতেঙ্গায় জায়গা দখল করে লকডাউনে চলছে ঘরনির্মাণ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন৷ প্রশাসন জানার পরেও কিভাবে এখনও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবনের নির্মাণকাজ চলছে— এই প্রশ্ন এখন সবার মনে৷

সিটিজিসান ডটকম/সিএস

Print This Post