সরকারের আদেশ অমান্য

পতেঙ্গায় জায়গা দখল করে লকডাউনে চলছে ঘরনির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ১ মে, ২০২০ শুক্রবার ০২:৩০ পিএম

করোনার প্রভাবে লকডাউনের সুযোগ নিয়ে চট্টগ্রামের নগরের পতেঙ্গা থানার মুসলিমাবাদ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন জিলানী নগর এলাকায় চলছে জায়গা দখলের মহোৎসব। শুধু তাই নয়, সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লকডাউনেও প্রতিদিন করছে ঘর নির্মাণের কাজ—এমনই অভিযোগ উঠেছে সেখানকার ভূমি সার্ভেয়ার ফোরকান সহ দুইজনের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্তরা হলেন, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার মুসলিবাদ এলাকার আহম্মদ রহমানের বাড়ির আবু তাহেরের পুত্র মো. ফোরকান ও একই এলাকার তাঁর চাচা মোহাম্মদ আলম। এদের মধ্যে ফোরকানের বিরুদ্ধে রয়েছে জায়গা-জমি সার্ভেয়ারের কাজে যুক্তসহ জমি বেচা-কেনা ও দখল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন তাঁর চাচা মোহাম্মদ আলমও- এমনটি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে মামলা থাকার পরও ১০ শতাংশ জায়গা দখল করে ঘরনির্মাণ অব্যাহত রাখায় গত ২৮ এপ্রিল জায়গা ক্রয়ের সূত্রে মালিক মো. নুরুল আলম বাদী হয়ে পতেঙ্গা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ওই পতেঙ্গা এলাকায় জায়গা ও জমি দখল বাণিজ্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফোরকানের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি, মাদকদ্রব্য ও জবরদখলের একাধিক মামলা সহ রয়েছে অভিযোগ।

জানা যায়, ২০১৯ সালে ৩০ জুন উত্তর পতেঙ্গা মৌজায় জেএল-২৪, আরএস জরিপের ২৫৬৬ ও খতিয়ানের আরএস ১৪৬৩, ১৫১১ দাগের ১০ শতাংশ জায়গা বায়নামূলে ক্রয় করেন মো. নুরুল আলম ও মো. শাহাদাত হোসেন নামের দুই ব্যবসায়ী। চট্টগ্রামের সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে ওই জায়গার প্রকৃত মালিক জানে আলম ও পাখিজা বেগম প্রকাশ পাখিজা বিবির কাছ থেকে হলফনামাও নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মো. নুরুল আলম বলেন, ‘আমি ও আমার ব্যবসায়ী পার্টনার মিলে ২০১৯ সালে মুসলিমাবাদ জিলানী নগর এলাকায় ১০ শতক জায়গা কিনেছি। পরে এ জায়গা আরেকজনের দাবি উঠলে আমরা আদালতে গোলাভাগের একটি মামলা দায়ের করি। কিন্তু তার অপেক্ষা না করে লকডাউনের সুযোগ নিয়ে ভূমিদস্যু ফোরকান ও তাঁর চাচা মিলে প্রতিদিন ওই জায়গার উপর ঘরনির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। বিষয়টি জানার পর গত ২৮ এপ্রিল পতেঙ্গা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। তারপরও প্রতিদিন ফোরকানের নেতৃত্বে ঘরনির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত এই প্রসঙ্গে মো. ফোরকান বলেন, ‘কই আমিতো কোন মামলার জায়গায় কাজ ঘরনির্মাণ করছি করতেছিনা। এটা কে বলেছে আপনাকে? এটা ভুয়া ইনফরমেশন দিছে আপনাকে৷ আমি কোন কাজ করতেছিনা৷ অভিযোগ কে করছে? আপনি আন্তাজে বললে হবে? এই ব্যাপারটা ভুয়া।’

লকডাউন না মেনে ও আদালতে মামলা থাকার পর ঘরনির্মাণ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপির পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া বলেন, ‘এরকম তো কোন ইনফরমেশন নেই৷ কেউ তো অভিযোগ দেয়নি৷ এখন তো করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে ঘরনির্মাণ কাজ করার কথা নয়, আমি বিষয়টি দেখছি।’

মামলা থাকা না থাকা প্রসঙ্গে বলেন, এটা না দেখে তো বলা সম্ভব নয়, দেখে তারপর বলতে হবে— যোগ করলেন ওসি।

সিটিজিসান ডটকম/আরএইচ

Print This Post