টাকা নিয়েও ফ্ল্যাট দিচ্ছে না ইমপালস প্রপার্টিজ

আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০১৬ ৬:১৩ অপরাহ্ন

sm620161124135654

চট্টগ্রাম :: ইমপালস প্রপার্টিজ লিমিটেড নামের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়েও ফ্ল্যাট দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। এর মধ্যে চাকরিজীবনের সব সঞ্চয়, শেষ সম্বল তুলে দিয়েছেন এমন মানুষ যেমন আছেন তেমনি প্রবাসীরাও রয়েছেন। এর ফলে ইমেজ সংকটে পড়ছে পুরো আবাসন শিল্পই। খবর বাংলানিউজের।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ইমপালস প্রপার্টিজ তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন আর কথার জাদুতে আকৃষ্ট করে ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার পর অধরা হয়ে যান প্রতিষ্ঠানটির মালিক-কর্মকর্তারা।

রাকিবুল হক নামের একজন গ্রাহক জানান, ইমপালসের মুরাদপুর-ফরেস্ট গেট এলাকার প্রকল্পে ২ হাজার ২০০ বর্গফুটের ‘বি ৭’ ও ‘সি ৭’ অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ২৫ লাখ টাকা, ‘বি ৮’ ও ‘সি ৮’ অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ২৫ লাখ টাকা দিয়েছি ২০১১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু এখনো প্রকল্পে কাজই শুরু হয়নি।

ইমপালসের ফরেস্ট গেট প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অথরাইজড অফিসার মনজুর হাসান বলেন, ওই প্রকল্পে পাইলিংয়ের সময় ‘নগর উন্নয়ন কমিটি’ ভিজিটে গেলে নিম্নমানের পাথর ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে পাইলিং করতে দেখে। এরপর লোড টেস্ট করা ছাড়া জমির মালিক নির্মাণকাজ শুরুর ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানান।

সম্প্রতি খুলশীতে ইমপালসের একটি প্রকল্পে আবাসিকের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহারের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নাসিরা সুলতানা ইমপালসের অপর একটি প্রকল্পে ২ হাজার ১৭৮ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ৪ হাজার ৭০০ টাকা দরে ১ কোটি ২৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা, কার পার্কিংয়ের ২০ লাখ টাকা, কো-অপারেটিভ খাতে ২৫ হাজার টাকা, ইউটিলিটি বাবদ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে ২০১১ সালের ১৬ মে ১৫ লাখ টাকা এবং পরের বছর ২০১২ সালের ৩০ জুন ৪৬ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু অ্যাপার্টমেন্ট পাননি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ারুল হক ১ হাজার ৮৫১ বর্গফুটের একটি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ২০১১ সালের ১৬ মে থেকে ২০১৪ সালের ২১ মে পর্যন্ত ১৪ কিস্তিতে দিয়েছেন ৮৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫০ টাকা। তার কাছে ইমপালসের পাওনা আছে ৫ লাখ ৫০ হাজার ৯৫০ টাকা। কিন্তু অ্যাপার্টমেন্ট পাননি তিনিও।

জানা গেছে, ইমপালস রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সদস্য। তবে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকায় তালিকাভুক্ত হয়েছে। আগে চট্টগ্রামে তালিকাভুক্ত ছিল।

রিহ্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কোনো অভিযোগ থাকলে মধ্যস্থতা করে কাস্টমার কেয়ার কমিটি। চট্টগ্রামে এ কমিটির দায়িত্বে আছেন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ইমপালসের বিরুদ্ধে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে আমরা খতিয়ে দেখবো। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা চেষ্টা করি দুপক্ষকে নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে। যদি সম্ভব না হয় তবে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইমপালস প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উল্লার মোবাইল এবং কোম্পানির ওয়েবসাইট ও মানি রিসিটে দেওয়া টিঅ্যান্ডটি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

সিটিজিসান.কম/রবি

Print This Post Print This Post