চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে এক দিন আগে হাসিখুশির মানুষটি ২৪ ঘণ্টার মাথায় ‘আত্মহত্যা’ করে বসবে, এমন ধারণা কোনোভাবেই মানতে চাইছে না কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর পরিবার। তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এটাই তাদের চূড়ান্ত বিশ্বাস।
বড় ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ মা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের কর্মকর্তা জাহেদা আমিন চৌধুরী। বড় ভাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ছোট বোন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা সাঈদা ছরওয়ার নিশা।
সাঈদা ছরওয়ার নিশা বলেন, ‘ওরা আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। পরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়েছে। আমার ভাইয়ের মুখে ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমার ভাই আত্মহত্যা করার মতো মানুষ না।’
নিশা কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকেন, ‘আমার বাবার সমান ভাইকে আমি হারিয়েছে। তাকে ছাড়া আমি কিভাবে বাঁচবো। তিনি সাংবাদিকসহ সবাইকে এ ঘটনার আসল সত্য উদঘাটন করার অনুরোধ জানান।’
দিয়াজরা তিন বোন, দুই ভাই। তার বড় বোন জুবাইদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা আইন পেশার সঙ্গে জড়িত। ছোট দুই বোনের মধ্যে সাঈদা ছরওয়ার নিশা চবি থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন, আরেক বোন নাহিদা ছরওয়ার নিভা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। ছোট ভাই মিরাজ ইরফান এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
দিয়াজ ইরফান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রোববার (২১ নভেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দুই নম্বর গেট এলাকার নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝোলানো অবস্থায় দিয়াজের মরদেহ পাওয়া যায়। চারতলা ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় মা ও ভাইবোনদের নিয়ে থাকতেন মুক্তিযোদ্ধার এই সন্তান।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post

