স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম :: আলো আধাঁরির ঝিলিক। তম্মধ্যে চলে পাশ্চাত্য স্টাইলে মাতাল তরুণ-তরুণীর নাচানাচি। এ সময় কার মেম কে টানে, কার প্রেমিক কে নিয়ে পূর্তি করে তাও টের পাওয়া কঠিন।
বুঝতে পারে শুধু তারাই যারা হারাই। তখন শুরু হয় হাতাহাতি-মারামারি। ডিজে পার্টির নামে প্রতিদিন এমন বেহায়াপণা ও মদের আসর চলে চট্টগ্রামের নৌ-বাহিনীর বোর্ড ক্লাবে।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় নারী নিয়ে টানাটানির একপর্যায়ে হাতাহাতি পরে মারামারি ঘটনা ঘটে। তবে বোর্ড ক্লাবের নিরাপত্তা রক্ষী আর দালালদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শা্ন্ত হয়।
শুধু সোমবার নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বোর্ড ক্লাবে হরহামেশায় চলে অশ্লীল বেহায়াপণা। যা নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও। কিন্তু নৌ-বাহিনী বলে কথা। নাক দিলেই চলে আইএসপিআরের নামে ধমক। এমন কথা জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পতেঙ্গা থানার এক এসআই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত ৮টা হলে বোর্ড ক্লাবে শুরু হয় গান। গানের তালে তালে হেলে দুলে চলে সুন্দরীদের অশ্লীল নাচ। শুরু হয় নারীদের নিয়ে টানাটানি। চলে সেক্স। বিপত্তি ঘটে তখনই; যখন একজনের মাঝে আরেকজন প্রবেশ করে ভাগ বসানোর চেস্টা করে।
তবে আলো-আধাঁরির মাঝে বিষয়টি টের পায় না অনেকে। কারণ এ সময় মদ আর বিয়ারের মাঝে ডুবে থাকে তরুণ-তরুণীরা। আর যখন বুঝতে পারে; তখনই শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি, মারামারি। গতকাল সোমবার রাত সোয়া ১০ টায় ঘটনাটা এমনই। তবে এসব ঘটনার অধিকাংশই চাপা রাখে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ক্লাবে স্থানীয় কতিপয় দালালদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রতিদিন পার্টি হয়। গতকাল সোমবার পার্টি হয় দালাল মনজুর আলমের মাধ্যমে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনজুর আলম বলেন, এখানে আনন্দ করতে এসে কেউ কেউ উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টি করে। তরুণরা মদ্যপান করলে একটু পাগল মনা হয় এটাই স্বাভাবিক। তাই ধরনের ঘটনা তো ঘটবেই।
এ ব্যাপারে জানার জন্য বোর্ড ক্লাবের ইনচার্জ লে. কমান্ডার আকিজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পুলিশ মালীকানাধীন নগরীর নন্দন কানন পুলিশ প্লাজায় ডিসকো পার্টিতে প্রতিদিন বেহায়াপনা ও মারামারির ঘটনার কারণে প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।এরপর থেকে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর পতেঙ্গা এই বোর্ডক্লাবে শুরু হয় এ পার্টি।
এ ব্যাপারে পতেঙ্গা থানার এসআই জাগির হোসেন বলেন, বোর্ডক্লাবে ডিজে পার্টির নামে তরুণ-তরুণীর অশ্লীল বেহায়পণা ও মদের আসর চললেও তাতে প্রবেশের কোন অনুমতি নেই। তবে মদ ও বিয়ার নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার সময় একবার হাতেনাতে ধরা পড়ে ডিজে পার্টির আয়োজক মনজুর আলম।
তাছাড়া গত বছর ক্লাবের ভেতরে মিতা (২০) নামে এক তরুণী শ্লীলতাহানি ও হাতাহাতি, মোবাইল, টাকা ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করে বলে জানান তিনি।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post

