
জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া করেসপন্ডেন্ট(চট্টগ্রাম) :: যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে এ্যানি বিশ্বাস (২৫) নামে রাঙ্গুনিয়ার এক মেয়েকে বিয়ের ৬ মাসের মাথায় কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মেরেছে শাশুড়ি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১১ নভেম্বর) রাতে তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে শাশুড়ি, ননদ ও স্বামীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় শাশুড়িকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।
শনিবার (১২ নভেম্বর) পোষ্টমর্টেম শেষে তার লাশ চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা বলুয়ারদীঘি পাড় শ্মশানে দাহ করা হয়েছে। নিহত এ্যানি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পশ্চিম বেতাগীর রামগতি হাট এলাকার শিবু বিশ্বাসের মেয়ে।
নিহতের মা রঞ্জু বিশ্বাস জানায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগীর মেয়ে এ্যানির সাথে হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম শিকারপুর গ্রামের দিলীপ মহাজনের পুত্র প্রবাসী লিটন মহাজনের (৩০) এবছরের ৮ মার্চ বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে গৃহবধুকে যৌতুকের জন্য নানাভাবে চাপ দিতে থাকে স্বামী ও শশুড় বাড়ির লোকজন। স্বামী দিলীপ তার স্ত্রীকে জানায় এবার বিদেশ গিয়ে স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসবেন। বিদেশে তেমন সুবিধা করতে না পারায় তিনি দেশে এসে ব্যবসা করবেন। এর জন্য প্রয়োজন ১০ লাখ টাকা। বিয়ের ১১ দিন পর স্বামী প্রবাসে চলে যান। শশুড় বাড়িতে শাশুড়ী ও ননদ তুচ্ছ বিষয়ে প্রায় সময় তাকে মানসিক ও শারিরীকভাবে নির্যাতন করত। প্রায় সময় না খেয়ে কাটাত গৃহবধু এ্যানি।
বরাবরের মতো ২১ অক্টোবর শাশুড়ি বেবি মহাজন ও ননদ মন্দিরা বিশ্বাস বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে বললে এ্যানি অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে শারিরীকভাবে নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে দুজনে এ্যানির শয়নকক্ষে ঢুকে চাবি কেড়ে নিয়ে আলমারিতে থাকা বিয়ের স্বর্নালংকার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্ঠা করে।
গৃহবধু এ্যানি স্বর্নালংকার দিতে না চাইলে তাকে মারধর করে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। তার তার আর্ত চিৎকারে আশেপাশের প্রতিবেশিরা তাকে উদ্বার করে পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে পানি ঢেলে তার গায়ের আগুন নেভানোর চেষ্ঠা করে। ততক্ষনে তার শরীরের অনেকাংশ পুড়ে যায়। তার শশুড়সহ প্রতিবেশীরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করানো। এদিকে শাশুড়ি ও ননদ বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে তার শরীরে আগুন ধরেছে বলে তার বাপের বাড়িতে মুঠোফোনে জানায়।
এ্যানির মা হাসপাতালে তাকে আহত অবস্থায় দেখতে গেলে গায়ে কেরোসিনের গন্ধে সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করলে তার মাকে সে সব খুলে বলে। এ ঘটনায় এ্যানির পিতা গত ৭ নভেম্বর শাশুড়ি, ননদ ও প্রবাসী স্বামীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ২১ দিন পর শুক্রবার (১১ নভেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পিতা শিবু বিশ্বাস জানান, মেয়েকে ছোটকাল থেকে অনেক কষ্ট করে মানুষ করেছি। ইমাম গাজ্জালী কলেজে স্নাতক ২য় বর্ষে অধ্যায়নরত অবস্থায় বর পক্ষের পিড়াপিড়িতে বিয়ে দিতে বাধ্য হই। ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু মেয়ের সুখ দেখতে পেলাম না। যৌতুকের জন্য আর কোনো বাবার বুক যাতে খালি না হয়, আর কেউ যেন এধরনের অপরাধ করতে সাহস না পায় তার জন্য তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তিনি জানান দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার শান্তিরহাটে সুনামের সাথে ব্যবসা করে অনেক কষ্টে মেয়েকে মানুষ করে বিয়ে দিয়েছি। মেয়ের সুখ দেখতে বিয়ে দিয়ে পেলাম মেয়ের লাশ।
হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post
