বিমানবন্দরমুখী ভিআইপি সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটির বেহাল দশা, আছে মৃত্যুঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বৃহস্পতিবার ১০:০০ এএম

বৈদ্যুতিক খুঁটির পলেস্তারা খসে পড়েছে, দৃশ্যমান রডও। রয়েছে যেকোনো সময় ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনাও। একপ্রকার ঝুঁকি নিয়েই খুঁটির পাশ ঘেঁষে চলাচল করছে পথচারীরা, প্রতিমুহূর্ত ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহনও।—বৈদ্যুতিক খুঁটির এমনই বেহাল চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার সিমেন্ট ক্রসিং-বিমানবন্দরগামী ১ নম্বর ভিআইপি সড়কে।

বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিমেন্টক্রসিং থেকে বিমানবন্দরগামী ভিআইপি সড়কের ডানপাশে রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্মিত ওয়াকওয়ে। সেই ওয়াকওয়ের পাশ ঘেঁষেই দাঁড়িয়ে রয়েছে ২০-২৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি। যার মধ্যে ১৬ তম খুঁটিটির অবস্থা একেবারেই নাজেহাল।

খুঁটিটি কেবলই দাঁড়িয়ে আছে রডের ওপর ভিত্তি করে৷ খুঁটির নিচের দিকের পলেস্তারা গাড়ির ধাক্কায় ৭০ শতাংশ ভেঙ্গে গেছে। যার ফলে খুঁটির মধ্যেকার রড দৃশ্যমান হয়ে আছে এবং অনেকটা নড়বড়ে হয়ে গেছে। অথচ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে সহস্রাধিক যানবাহন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গরাও এ সড়ক দিয়েই প্রতিদিন বিমানবন্দরে যাতায়াত করছেন।

‘এই খুঁটির ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার কিলোভোল্টের বিদ্যুৎ চলাচল করছে৷ আর খুঁটির হাল যে রকম, যেকোনো সময় সাধারণ মানুষ বা গাড়ি চালকরা দুর্ঘটনার মুখে পড়তে পারে৷ কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নিলে দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় নিবে কে?’—এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের।

মো. মঞ্জুর আলম নামে এক পথচারী বলেন, ‘আমি প্রায়ই এ ওয়াকওয়ে ধরে হেঁটে যাই। আল্লাহ না করুক কখন কোনো দুর্ঘটনার শিকার হই সেটা নিজেও জানিনা। এখান দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মনে অজানা এক আতঙ্ক বিরাজ করে প্রায়ই।’

কবির আহমেদ বিজয় নামে এক কলেজছাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রায়ই আমরা বন্ধুবান্ধব মিলে ওই সড়কের ওয়াকওয়ে ধরে হেঁটে প্রাতঃভ্রমণে বের হতাম। কিন্তু এখন আমরা ভয়েও যেতে পারিনা। কারণ ওই সড়ক দিয়ে হাঁটার সময় ভাঙ্গা ও বিপদজনক খুঁটি দেখে এখন ভয় হয় যেতে।’

সংশ্লিষ্ট খবরঃ ভুতুরে বিলের ফাঁদে দিশেহারা পতেঙ্গার শত শত গ্রাহক

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ি বলেন, ‘এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং উদাসীনতা আমাদেরকে মর্মাহত করে। এ খুঁটির অবস্থা দেখে বিবেকবান কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বাংলাদেশে বিদ্যমান আছে বলে মনে হয় না। এ গাফিলতি শুধু বিদ্যুৎ বিভাগকে নয়, এ সড়কে চলাচলরত প্রশাসনিক সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধিদের ধিক্কার জানাই এ ধরণের বিবেকহীন কর্মকাণ্ডের জন্য।’

তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘এ খুঁটি দেশ ও দশের নয়, নিজের ঘরের খুঁটি মনে করে যত দ্রুত সম্ভব মেরামত করা হোক।’

এবিষয়ে জানতে হালিশহর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘ওটা হয়তোবা যেকোনো গাড়ি এসে ধাক্কা-টাক্কা দিছে। আমরা গিয়ে দেখে এসেছিলাম গতকাল। এমনে পিলার ওইটা পড়বে না। ওভাবে থাকবে। আর আমরা ওটা ডিসবেন্ডিং করে ফেলবো। একটা পিলার তো আর সড়ানো যাবেনা। আমরা সব পিলারগুলোই সড়িয়ে ফেলবো।’

স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওটা ডেডলাইন, ওটায় কোনো বিদ্যুৎ নাই। ওই লাইনটাই আমরা ডিসবেন্ডিং করে ফেলবো। আর ওটা পড়বেও না। ওটা ওপরের কেবলের টেনশনে আটকে আছে। ওটা পড়ার সুযোগ নেই।’

দুর্ঘটনা ঘটতে কতক্ষণ?—এই কথা মনে করিয়ে দেওয়ার পরই তিনি আবার বলেন, ‘হ্যাঁ, দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ রকম অনেক পিলার গাড়ি ধাক্কা দিয়ে ভেঙ্গেও ফেলছে। আমার দেখামতে ৩০-৪০% ড্যামেজ ওটা। যাহোক, এটা আমি দ্রুতই করে ফেলবো। হয়তো এই মাসের ভেতরেই করে ফেলবো।’

ভবিষ্যত পরিকল্পনার জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখন যেটা করতেছি—পতেঙ্গা সীবিচ এলাকায় কোনো পর্যটক গেলে বিদ্যুতের পোল দেখবে না। আমরা সেই প্লানিং করছি। মাটির নিচ দিয়েই ওদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে। আমরা যত সম্ভব সৌন্দর্য বর্ধনের চেষ্টা করছি। আর এতে ঝুঁকিও কমবে।’

আরএইচ/সিএস

Print This Post