হালিশহর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র

ভূতুড়ে বিলের ফাঁদে দিশেহারা পতেঙ্গার শতশত গ্রাহক

ইছহাক বিন হোসেন | আপডেট : ৩১ মে, ২০২০ রবিবার ০১:২২ পিএম

করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের অজুহাত দেখিয়ে নির্দিষ্ট বিলের চেয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের ফাঁদে পড়েছেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানা এলাকার অধিকাংশ গ্রাহক।

শুধু তাই নয়, এসব বিদ্যুৎ বিলের কপি সংশোধনের পরও সংশয় কাটছে না ভূক্তভোগীদের। আবার এসব বিল পরিশোধের পরও পরবর্তী মাসে চলে আসছে উল্টো জরিমানাসহ আরও অতিরিক্ত বিল। সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে রীতিমত হেনস্তার শিকার হচ্ছেন সেখানকার শতশত গ্রাহক— এমন অভিযোগ ওঠেছে হালিশহর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ শাখার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যবহৃত বিদ্যুতের চেয়ে বেশি বিল, মিটারের চলতি ইউনিট রিডিং না দেখে অনুমানভিত্তিক রিডিং করা ও বছর শেষে থেকে যাচ্ছে একই সমস্যা। এতে প্রতিকার চাইতে গিয়ে হয়রানি ও নাজেহালের শিকার হচ্ছেন অনেকেই।

এদিকে, করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট দূর্যোগের কারণে, দুই মাসের অধিক সময় ধরে কর্মহীন ও গৃহবন্দি থাকায় অধিকাংশ লোকজনের আয় নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। এই সময় উদ্ভট সব বিল কাণ্ডে দিশেহারা অবস্থা গ্রাহকরা। শুধু তাই নয়, এর সাথে গুনতে হচ্ছে বিলের চেয়ে অতিরিক্ত ২-৩ গুন অর্থ। এতে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে অনেকের।

ভুক্তভোগীরা বলেন, গত ২-৩ মাস মিটার রিডিং না দেখে অফিসে বসে বিল বানিয়ে বিতরণ করেছে রিডাররা। কোনো কোনো এলাকায় ৬ থেকে ৮ মাসে তাদের দেখা পায়নি গ্রাহকরা। আবার এসব সমস্যা সংশোধনের করতে দফতরে গেলে সেখানে হয়রানি তো আছেই। আবারও বিল সংশোধন ও মিটারের সমস্যা সমাধান করতে গিয়েও দালালদের দিতে হচ্ছে আরও বাড়তি টাকা।

দুইজন গ্রাহক বলেন, অতিরিক্ত বিলে বিষয়ে সেখানকার বিদ্যুৎ বিল সমন্বয়ক জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন পরের মাসে ঠিক করে দেওয়া হবে। কিন্তু লকডাউনের অজুহাত তোলেন কথায় কথায়। তাঁর সঙ্গে সুর মেলায় সেখানকার নির্বাহী কর্মকর্তাও।

তারা আরও বলেন, অফিস থেকে দেওয়া বিদ্যুৎ বিলগুলো পুরোপুরি মনগড়া। কখনো ইউনিট রিডিং এর দ্বিগুন আবার কখনো দিগুনেরও অধিক বিল। তেমনি একটি বিল সংশোধন করার পরও তাও আবার পরের মাসে ওই বিলের টাকা পরিশোধ করেছি জরিমানাসহ।

সূত্র বলছে, হালিশহর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ শাখার প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাহক রয়েছে। একজন নির্বাহী কর্মকর্তাসহ রয়েছে মোট সাতজন প্রকৌশলী কাজ কর্মরত। সেখানে লাইনম্যান ও হেলপারসহ রয়েছে ৩০ জন কর্মচারী। এছাড়া বিলের কপি বিতরণসহ মিটার রিডার হিসেবে কাজ করছেন আরও ৩০ জন কর্মচারী।

হালিশহর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী (ইনচার্জ) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, মিটার রিডারদের কাজ বাড়ি-বাড়ি গিয়ে রিডিং চেক করা। কোথাও মিটার রিডার যায়না এমন অভিযোগ আমরা পাইনি।

অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, যদি কারো বিদ্যুৎ বিল বেশি হয়ে থাকে তাহলে তা সংশোধন করে দেওয়া হবে। তবে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করার প্রসঙ্গে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

সিটিজিসান ডটকম/সিএস

Print This Post