সাংবাদিকরা করোনাকালে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছে : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ৩ আগস্ট, ২০২০ সোমবার ১০:৩০ পিএম

সাংবাদিকরা করোনাকালে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের মধ্যে প্রথম মাসে সব কিছু বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অনেক কিছু খুললেও এখনও অনেক কিছু খোলেনি। কিন্তু সাংবাদিকদের কাজকর্ম কখনও বন্ধ ছিল না। সাংবাদিকরা এই করোনাভাইরাসের মধ্যে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছে।’

সোমবার ( ৩ আগস্ট) বন্দর নগরীর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহ করেছে, সংবাদ পরিবেশন করেছে, যে কারণে পত্রিকা বের হয়েছে, টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে। সাংবাদিক ভাইবোনেরা যদি এভাবে ঝুঁকি নিয়ে কাজ না করত তাহলে পত্রিকায় ও টেলিভিশনের সংবাদ পরিবেশন করা সম্ভবপর হত না। এর জন্য বহু সাংবাদিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ভাইবোন করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে শুরু থেকেই সংবাদপত্র টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ার মালিকপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছিলাম যাতে সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা ঠিকমতো দেওয়া হয়। করোনাভাইরাসের কারণে এমন কোনো সেক্টর নাই নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি, সমগ্র বিশ্বব্যাপী এটি হচ্ছে চিত্র।

‘তাই আমি বারবার অনুরোধ জানিয়েছিলাম, এই করোনাভাইরাসের মধ্যে আমরা কষ্টটা যেন ভাগ করে নিই। এই দুর্যোগ কিন্তু সব সময় থাকবে না, তাই দুর্যোগের সময় আমাদের অসুবিধা হলেও আমি সমস্ত গণমাধ্যমের কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাব সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা যতোটুকু সম্ভব সঠিকভাবে যেন পরিশোধ করা হয়।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবেলায় প্রথম দিকে চট্টগ্রামে অনেক অসুবিধা ছিল, আইসিইউ বেড থেকে শুরু করে নরমাল বেডের সমস্যা ছিল। আজকে আইসিইউ বেড খালি আছে, নরমাল বেডও খালি। প্রথম দিকে পত্রপত্রিকায় যে সংবাদগুলো এসেছে সেগুলো আমার চোখে পড়েছে। চট্টগ্রামে রোগী পাঁচশ বেড আছে চারশ- এ ধরনের খবর পরিবেশিত হয়েছে। অথচ করোনা আক্রান্ত শতকরা ৮০ ভাগের বেশির হাসপাতালে যেতে হয় না।’

তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সংবাদপত্র সমাজকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করার জন্য, সমাজের তৃতীয় নয়ন খুলে দেয়ার জন্য, দায়িত্বশীলদের ভূমিকা যাতে আরও সঠিকভাবে পালন করতে পারে সেই ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে।’

‘সুতরাং যখন কাজের ত্রুটি হয় সেটি অবশ্যই গণমাধ্যম উঠে আসবে। যখন কাজ ভালো হয় তখন সেটিও গণমাধ্যমে উঠে আসা প্রয়োজন। আজকে যে ভালো পরিস্থিতিতে আমরা আসতে পেরেছি সেটিও গণমাধ্যমে উঠে আসা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ অনেক দেশের তুলনায় সফলভাবে করোনাভাইরাস মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। যদি তাই না হত তাহলে আমাদের দেশে মৃত্যুর হার এত কম হত না। মৃত্যুর হার উন্নত দেশগুলোর চেয়ে তো কম বটেই এমনকি আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও কম।

বিশেষজ্ঞদের মতামতকে ভুল প্রমাণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্ব প্রমাণ করেছে, সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারলে করোনাভাইরাসের মতো দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বিরোধী দল ঘরের মধ্যে বসে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে টেলিভিশনে উঁকি দিয়ে দিয়ে কথা বলে ঘর থেকে বের হয় না। উঁকি দিয়ে কথা বলে সরকারের সমালোচনা করে। আমরা একদিনও বসে ছিলাম না, জনগণের পাশে থাকতে গিয়ে আমাদের দলের অনেক নেতা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী আক্রান্ত হয়েছে, মৃত্যুবরণ করেছে।

আমরা জানি করোনাভাইরাস আক্রান্ত হলে কী হতে পারে, সেটি মাথায় রেখে কাজ করেছি। সংকট মোকাবেলায় জনগণের পাশে থাকতে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে এমন শিক্ষা দিয়েছেন।’

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাধারন সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম। এ সময় সিইউজে নেতৃবৃন্দ তথ্যমন্ত্রীকে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

পরে চট্টগ্রাম বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে করোনাভাইরাসসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন তথ্যমন্ত্রী।

এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিটিজিসান ডটকম/সিএস

Print This Post