নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজের সম্বল সিএনজি অটোরিকশা খুইঁয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন মো. ওসমান। করেন থানায় অভিযোগ। দায়িত্ব দেওয়া হয় এক উপ-পরিদর্শককে। কিন্তু ‘বাকিতে কাজ করেন না’ ওই পুলিশ কর্মকর্তা। ঘটনাস্থল ও আশপাশের ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ যাচাইয়ের নামেই হাতিয়েছেন ৮ হাজার টাকা। আর ‘বড় অঙ্কের’ টাকা না দিলে উদ্ধার করবেন চুরি হওয়া ওই সিএনজি—সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ভুক্তভোগীকে।
জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরের কোতোলালী থানার ফিশারীঘাট সড়কে যাত্রী ভাড়া নিয়ে যায় সিএনজি চালক মো. হাসান। যে গাড়িটির মালিক মো. ওসমান। হাসানের কাছ থেকে অজ্ঞান করে গাড়িটি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় হাসান একটি অভিযোগ দায়ের করেন কোতোয়ালী থানায়। পরে এ অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় একই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল হককে।
প্রতিবেদকের হাতে আসা দুটি পৃথক অডিও কল রেকর্ডে শোনা যায় এসআই রবিউল সিএনজি মালিক ওসমানকে বলছেন, ‘ড্রাইভারসহ একঘণ্টা পর কোতোয়ালী থানায় নিয়ে আসবে, সাথে ভাইয়ের (রবিউলের) খরচপাতিও নিয়ে আসবে’। এর ঠিক একঘন্টা পর আবারো মুঠোফোন কল করে এসআই রবিউল বলেন, ‘ভাতিজা, টাকা-পয়সা আনছোস কিনা হে কথা বল, (ভাতিজা টাকা পয়সা আনছো কিনা, সে কথা বল)। মাইনষের লগে এখন বাইক্কা ইয়া করতে রাজি নাই (মানুষের সঙ্গে বাকিতে কাজ করতে রাজি না)।’
ভুক্তভোগী ওসমান জানান, অভিযোগ দায়ের করার পর সিএনজি অটোরিকশাটি উদ্ধারের জন্য কৌশলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করার নামে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে ৮ হাজার টাকার মতো আদায় করেন এসআই রবিউল হক।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে এসআই রবিউল হকের কথামতো পুরাতন স্টেশনের ভেতরে যেতে বললে তিনি ও সিএনজি চালক হাসান সেখানে উপস্থিত হয়। ১০ হাজার টাকা এনেছি বলার পর এসআই রবিউল তাকে অপেক্ষা করতে বলেন। কিছুক্ষণ পর রবিউল জানান, যে গাড়িটি উদ্ধার হয়েছে সেটা ওসমানের নয়।
ওসমান দাবি করেন, টাকা কম দেওয়ার কথা শুনে বিরক্ত প্রকাশ করে তার গাড়ি উদ্ধার করতে পারলে পরে জানাবেন বলে এসআই রবিউল চলে যান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কোতোয়ালী থানার এসআই রবিউল হক বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে ডিসি স্যার আমাকে ডেকেছেন। আপনি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।’
জানতে চাইলে নগরের পুলিশ উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এই বিষয়ে অভিযোগে পেয়েছি। এটি তদন্ত চলছে।’
Print This Post
