বামে ছনুয়া উপি চেয়ারম্যান এম হারুনুর রশিদ এবং ডানে সাংবাদিক বেলাল উদ্দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২ আগস্ট, ২০২০ রবিবার ১০:৪০ পিএম
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া আবাখালী এলাকা থেকে মো. বেলাল উদ্দিন নামে এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে গেছে ছনুয়া উপি চেয়ারম্যান এম হারুনুর রশিদের পোষ্য সন্ত্রাসীরা। অপহৃত হওয়া ওই সাংবাদিক একুশে পত্রিকার বাঁশখালী প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। রবিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, আবাখালী স্টুডেন্ট ফোরাম ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শেষে বাড়িতে ফেরার পথে বেলাল উদ্দিনকে বাক্কা, আশেক, নিউসন নামের তিন ব্যক্তি একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেয়।
এরপর বেলালকে চেয়ারম্যান ছনুয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম হারুনুর রশিদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লায়ন এম. ছরওয়ার আলম নামে ওই ব্যবসায়ী।
চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১২টি মামলার আসামি। ১২ বছরের কাজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল নগরের পাঁচলাইশ থানায়।
এছাড়া চেয়ারম্যানের ভাই মো. আলমগীর অন্তত ৮টি মামলার আসামি। চেয়ারম্যানের পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, সাগরে জেলেদের আটকে চাঁদা আদায়, জলদস্যুতাসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আছে।
চেয়ারম্যান হারুনের বাহিনীর অন্যতম সদস্য বহু মামলার আসামি সোলতান বাহাদুর প্রকাশ বাহাদুর ডাকাত, নুরুল আলম, মো. হোসাইন ও আবু তালেব র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিভিন্ন সময় নিহত হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাঁশখালীর হারুন চেয়ারম্যানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার ওসি রেজাউল করিমের মজুমদার বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়েছিলাম। তখন চেয়ারম্যান বলেন, আমি তো বাড়িতে আছি, এখানে কোন কিছু নেই।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সরওয়ার আলমের বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওসি বলেন, ‘উনার নাম্বারটি দিন। আমি দেখছি।’
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, কেউ নিখোঁজ হলে তাকে তো আগে উদ্ধার করতে হবে। আমি এখনই বাঁশখালীর ওসির সঙ্গে কথা বলতেছি।
এ বিষয়ে জানতে ছনুয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম হারুনুর রশিদের মুঠোফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।
সিটিজিসান ডটকম/আরএইচ
Print This Post
