রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা

স্কুল নির্মাণের আড়ালে চলছে গাছ ও পাহাড়কাটার মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ০৯ জুন, ২০২০ মঙ্গলবার ০২:৫০ পিএম

বিদ্যালয় নির্মাণ করার নামে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে গাছ নিধন করার মহোৎসব। এতে প্রায় তিন শতাধিক পাহাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব কাটা গাছগুলো রাতারাতি বিক্রয়ও করেছে তাঁরা— এমন অভিযোগ উঠেছে সেখানকার প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

শুধু তাই নয়, ওই সিন্ডিকেট লোকজন স্কেভেটর দিয়ে প্রতিদিন নির্বিচারে কেটে ফেলছে পাহাড়। আবার এসব পাহাড়ের মাটিও বিক্রি করছে রাতের অন্ধকারে। এতে সামনের বর্ষায় পাহাড়ধসের শঙ্কায় ভোগছেন স্থানীয়রা!

সরেজমিনে সোমবার (৮ জুন) কাউখালী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা অফিসের (ইউএনও) অফিস থেকে একটু দুরত্ব এলাকায় এসব চিত্র দেখা যায়।

অভিযুক্তরা হলেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতার ভাতিজীর স্বামী যিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্ত্রী ও একই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা। এছাড়াও কমলপতি ইউপি চেয়ারম্যান ক্যজাই মারমার স্ত্রী মিনু মারমাও ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। এছাড়া সেখানকার চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনবিহীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন কনিষ্ট বড়ুয়া।

১৯৪৮ সালে কাউখালী উপজেলা সদরের পোয়াপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করতে প্রায় ৮০ লাখ ব্যয়ে টেন্ডার করেছে উপজেলার এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে হরিলুটে নেমেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্য। বর্তমান সরকারের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অপকর্ম চালাচ্ছেন তাঁরা। প্রকল্পের কাজ দেখিয়ে আত্মসাতের প্রতিযোগিতা নেমেছেন তাঁরা।

জানতে চাইলে পোয়াপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উসিচিং মারমা বলেন, এখন বিদ্যালয় বন্ধ। এবিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি নয় তিনি।

পোয়াপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কনিষ্ট বড়ুয়া জানান, ‘কারা গাছ কেটেছে তা আমি জানিনা। আর স্কুলের স্বার্থে সামান্য মাটি কাটা হচ্ছে। সেখানে এখানকার ইউএনও ও ডিসির অনুমতি নেওয়া হয়েছে।’

বিদ্যালয় কমিটির মেয়াদকাল মাত্র ১ বছর। আগের কমিটির লোকেরা বিদ্যালয়ের গাছগুলো বিক্রি করেছে— যোগ করেন তিনি।

কাউখালী উপজেলা (এলজিইডি) প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র রায় বলেন, ‘কাজটি করছে রতন এন্টারপ্রাইজ। সেখানে কাজ করছেন সম্ভবত জেলা পরিষদ সদস্য অংসুইপ্রু চৌধুরীর ছেলে অভিমং চৌধুরী ও আজিজ। কিছু মাটি সমান করার কথা ছিল কিন্তু নির্বিচারে মাটি কাটার কথা তো ছিল না।’

এদিকে বিষয়টি কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শতরুপা তালুকদারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আপাতত কাজটি বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাটি কাটার বিষয়ে জেলা প্রশাসকের অনুমতি আছে বলেও জানান তিনি।

জানতে চাইলে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ এই প্রসঙ্গে বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিটিজিসান ডটকম/সিএস/আরএইচ

Print This Post