নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ১২ মে, ২০২০ মঙ্গলবার ০৩:০৪ পিএম
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও সাংবাদিক কন্যা ডা. সামিয়া নাজনীনের শরীরে করোনাভাইরাস এর জীবাণু শনাক্ত হয়েছে৷ করোনাযোদ্ধা মেয়ের সুস্থতার জন্য মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী দোয়ার দরখাস্ত করেছেন সবার কাছে।
জানা যায়, গত ৩-৪ দিন আগে করোনার উপসর্গ দেখা দেয় সাংবাদিক কন্যা ডা. সামিয়া নাজনীনের শরীরে৷ পরবর্তীতে সোনবার (১১ মে) রাতে নমুনা পরীক্ষায় তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে৷ বর্তমানে সে শশুরবাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন৷
সিটিজিসান ডটেকমের পাঠকদের জন্য সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরীর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-
আমার মেয়ে ডাঃ সামিয়া নাজনীন করোনা আক্রান্ত। সে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ করে তুলতে গিয়ে তাদের সেবায় একাত্ব হয়ে এমনভাবে নিজেকে উৎসর্গ করে যে, সে নিজেই এ রোগের শিকার হয়ে পড়ে। ক’দিন ধরে গায়ে জ্বর আসাতে বাসায় সে নিজেকে আলাদা রাখে এবং পরে পরীক্ষা করালে রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
তিনি বলেন, আমার ফুলের মত কোমল মেয়ে। গতরাতে রিপোর্ট পাওয়ার পর কেঁদে কেঁদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে। ওর মাও কাঁদছে অবিরত । মা মেয়ে কারো চোখে ঘুম নেই । আমি কাঁদতে পারছি না । আমার ভিতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে দলা দলা কান্না পাকিয়ে উঠছে কিন্তু চোখ ফেটে বের হতে পারছে না।
আমার মেয়ে তার বাপের খাসলত পেয়েছে । আমি সারাজীবন জনসেবা করার চেষ্টা করেছি। অন্যের সেবায় জীবন উৎসর্গ করেছি । রাজনীতি, সাংবাদিকতা যখন যা করেছি সমস্ত মন প্রান দিয়ে করেছি। পরের কাজে জীবনটা বিলিয়ে দিয়েছি, কোন ফাঁকি রাখি নি। নিজের স্বার্থ নিয়ে কোনদিন মাথা ঘামাই নি । যখন যে কাজ করেছি তাতে ষোলআনা উজাড় করে দিয়েছি। নিজেকে এমনভাবে কাজের মধ্যে ডুবিয়ে দিয়ে কখন জীবনের শেষপ্রান্তে এসে পৌঁছেছি টেরই পাই নি । শেষ বেলায় হিসেব করে দেখছি আমার হিসেবের ঘরে ফাঁকি। আমি একজন ব্যর্থ মানুষ । আমার প্লট নেই, ফ্ল্যাট নেই,গাড়ি নেই বাড়ি নেই, ব্যাংক ব্যালান্স নেই। আমার ছেলেমেয়েদের ইউরোপ আমেরিকায় পড়াতে পারি নি।
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েও আমার মত আত্মবিস্মৃত হয়ে করোনা রোগিদের সেবা করতে যেয়ে নিজের শরীরে করোনা ভাইরাস ঢুকিয়েছে। আমার সকল মুরব্বী, মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক জীবনের নেতা,রাজনৈতিক সহকর্মী, সিনিয়র, জুনিয়র, বন্ধু, ছোট ভাইয়ের মত আমি যাদেরকে পরিচর্যা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছি,তারা এবং আমার সহযোগি সাংবাদিক-সকলের প্রতি আমার সকরুন মিনতি, আমার মেয়েটাকে সুস্থ করে তুলতে কারো কোন করনীয় থাকলে, সাহায্যের উদার হস্ত নিয়ে এগিয়ে আসুন, আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।আমার মেয়ে এখন শ্বশুরবাড়িতে কোয়ারান্টাইনে বাস করছে।আমি মুক্তিযুদ্ধে জিতেছি,আশা করি আমার মেয়েও করোনা যুদ্ধে জিতবে।
সিটিজিসান ডটকম/আরএইচ
Print This Post
