বাসা ভাড়া নিয়ে বিপাকে চবি শিক্ষার্থীরা

অমিত কান্তি সিকদার | আপডেট : ০৭ মে, বৃহস্পতিবার ১২:৫০ পিএম

করোনার প্রকোপে সারাদেশে চলছে লকডাউন। জরুরী কাজ ব্যতীত ঘরের বাইরে বের হওয়ার বিরুদ্ধে জরুরী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অধিকাংশ মানুষই তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ভুগছে একই সমস্যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা অবসর সময়ে টিউশন,পার্টটাইম জব বা কোচিং করিয়ে নিজেদের হাতখরচের জোগান দিয়েও বাসায় টাকা পাঠায়। তবে করোনার লকডাউনে তাঁরা তাঁদের আয়ের উৎস হারিয়েছে। ফলে ভুগছে আর্থিক সমস্যায়।এ অবস্থায় বাসা বা কটেজ মালিকদের ভাড়ার জন্য চাপ সহ্য করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের যা মোটেও মানবিকতার পর্যায়ে নয়।

চবির অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই সারা বছর শাটল ট্রেনে বা বাসে যাতায়তের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন জায়গায় টিউশন বা কোচিং করে অর্থ উপার্জন করে। আবার এই অর্থ তাদের নিজেদের খরচ মিটিয়ে পাঠাতে হয় নিজের পরিবারের কাছেও।

আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত আবাসিক হল না থাকার কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকেই ভাড়া বাসায় বা কটেজে থাকতে হয়।ফলে মাস শেষে বাসা ভাড়ার জন্যে গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে সাড়ে ২৫ হাজার। ১১টি আবাসিক হল ও একটি হোস্টেল মিলিয়ে মোট ৫ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা রয়েছে ক্যাম্পাসে। সে হিসেবে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ব্যবস্থা করতে পেরেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সে হিসেবে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী শহর ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভাড়া বাসায় থাকে। এর মধ্যে ক্যাম্পাসের পাশের এলাকাগুলোতে কটেজ ও মেসে থাকে প্রায় ৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।

করোনার কবলে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সকল শিক্ষার্থীরা এখন তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছে। তবুও মাস শেষে বাসা বা কটেজ ভাড়ার দুশ্চিন্তার দিন কাটাতে হচ্ছে। কারন লকডাউনের কারনে তাদের টিউশন,জব বা কোচিং সেন্টার রয়েছে বন্ধ। আয় না থাকলেও ব্যয়ের হিসাবের খাতা বন্ধ হচ্ছে না কোনভাবেই।এমতাবস্থায় যেসব শিক্ষার্থীরা ভাড়া বাসায় অথবা কটেজে থাকে তারা বাসা ভাড়া দিতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।দেশের বিভিন্ন জায়গায়ই অধিকাংশ বাড়ি মালিক চলমান পরিস্থিতির কারনে বাসা ভাড়া মওকুফ করে দিলেও চবিয়ানরা পাচ্ছে না এই সুবিধা। মাস শেষেই বাসা বা কটেজ ভাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ওপর।উপায়হীন হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে বাসা ভাড়া মওকুফের ব্যাপারটিতে চোখ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সমস্যাটির সমাধানে এগিয়ে আসবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

এ বিষয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রিফাত বলেন,‘আমার বাবা একজন কৃষক। আমাদের দুই ভাই-বোনকে পড়শোনার জন্য বাইরে থাকতে হয়।করোনা পরিস্থিতিতে বাবার আয় খুবই কম।তাই আমাদের দুই ভাই-বোনের বাসা ভাড়া দেয়া খুবই কঠিন হয়ে দাড়াচ্ছে।এমতাবস্থায় অন্তত একজনের বাসা ভাড়া মওকুফ বা অর্ধেক করে দেয়া হলেও উপকার হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করছি যেন বাড়ি ভাড়া মওকুফের ব্যাপারে একটা সুষ্ঠু সমাধান দিয়ে আমার মতো সমস্যায় থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়ায়।’

এ বিষয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ইলিয়াস মুন্না সিটিজিসানকে বলেন, ‘হয়তো রুম খালি করে দিন, না হয় বাসা ভাড়া দিন—
বাসা মালিকের এই উক্তিটি হয়ত রীতিমতো শুনে যাচ্ছে আমার মত অন্যসকল ব্যাচেলর শিক্ষার্থীরা।
তিনি বলেন, আমি ব্যাচেলর থাকি। আমার বাসা ভাড়া এবং হাত খরচের টাকা টিউশনের করে আয় করি। কিন্তু দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমার নিজের খরচ বহন করতে আমার হিমশিম খেতে হচ্ছে যেহেতু ইনকাম পথ ইতিপূর্বে বন্ধ হয়ে গেছে।এমতাবস্থায় বাসাভাড়া দেওয়া মোটেই সহজ কজ নয়। আর তাছাড়া করোনা পরবর্তী কয়েক মাসের বকেয়া ভাড়া একত্রে দেওয়া প্রায় অসম্ভব আমার পক্ষে। আমি এবং আমার কিছু বন্ধুরা মিলে বাসার মালিককে বলেছিলাম মানবিক বিচারে করোনাকালীন কয়েক মাসের ভাড়া মওকুফের কথা। তিনি রাজি হন নি। উল্টো তিনি বলেছেন ভাড়া দিতে না পারলে রুম ছেড়ে দিতে। আমরা ওনাকে এরকমও বলেছিলাম যে, আমাদের ভাড়ার অন্তত অর্ধেক করে দিন। তাতেও তিনি রাজি হন নি। এমতাবস্থায়, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট সাহায্যের আবেদন করছি।’

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষে ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাব্বি দীপ্ত বলেন, ‘করোনার ছোবলে দেশ এখন ঘোরতর বিপদের মুখে।দেশের অধিকাংশ মানুষ তাদের কাজ হারিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। এই অবস্থায় বাড়ি ভাড়া দেওয়া নিয়ে বাড়াবাড়ি করাটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপরে জুলুম ছাড়া আর কিছুই নয়।তাই বাসা মালিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই এই কয়েক মাসের ভাড়া মওকুফ করে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার পরিচয় দিন।’

সিটিজিসান ডটকম/আরএইচ

Print This Post