বন্দর-পতেঙ্গায় বেড়েছে মশার উপদ্রব

আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২০ ১২:১১ অপরাহ্ন

রবিউল হোসেন | আপডেট: ২২ এপ্রিল, বুুুুুধবার ১২:০৭ পিএম

চট্টগ্রামের বন্দর ও পতেঙ্গা থানা এলাকায় বেড়েছে মশার উপদ্রপ। সন্ধ্যা বা রাতে নয়, দিনের বেলাও মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ মানুষ। মশা থেকে রেহাই পেতে কয়েল বা অ্যারোসল স্প্রে করেও মেলে না মুক্তি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ছেটানো ওষুধেও বন্ধ হচ্ছে না মশার উপদ্রব। তাদের মশা নিধন কার্যক্রমের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে অনেকের— এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

সূত্র বলছে, গত ৫ বছরে ৩৯ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়া পতেঙ্গা ও ইপিজেড ও বন্দর এলাকার অধিকাংশ ওয়ার্ডে ওষুধও পৌঁছানো হয়নি কর্পোরেশন থেকে। এসব ওয়ার্ডের লোকসংখ্যা বেশি হওয়া সত্তেও মশার ওষুধ অপ্রতুল। যার ফলে মশার যন্ত্রণায় দুর্ভোগে পড়েছে এখানকার প্রায় ২০ লাখ মানুষ।

স্থানীয়রা বলেন, সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ও ঝুঁকির মধ্যে চলছে অঘোষিত লকডাউন৷ তাই সবাই হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করছেন ঘরের মধ্যেই। শুধু সন্ধ্যা বা রাতে নয়, দিনের বেলায়ও মশার যন্ত্রণায় স্বাভাবিক কাজ করা যাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে ওয়ার্ড থেকে গুটি কয়েক এলাকায় ওষুধ ছিটানো হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। শুধু তাই নয়, কর্পোরেশনের ঔষধেও কমছেনা মশার উপদ্রব৷

জানতে চাইলে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘গত ৫ বছরে কর্পোরেশন থেকে কোন ওষুধ পাইনি। সম্প্রতি ২৫ লিটারের এক ড্রাম ওজনের মশার ওষুধ দেয়া হয় সিটি কর্পোরেশন থেকে। এই ওষুধগুলো পুরো এলাকায় ছিটিয়ে মশার উপদ্রব কমানো সম্ভব নয়৷ তবুও যা পেয়েছি৷ তা দিয়েই চেষ্টা অব্যহত রয়েছে৷’

মশার যন্ত্রণার এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, ‘গত ৫ বছরে কোন ঔষধ পাইনি। যা পেয়েছি তা নালা নর্দমায় ছিটিয়েও মশার উপদ্রব কমানো যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। কর্পোরেশন থেকে যা পেয়েছি তা দিয়েই চালাচ্ছি। দেখি, কতটুকু করা যায়।’

এ বিষয়ে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন বলেন, ‘প্রতিবছর আমি নিজ উদ্যোগে কর্পোরেশন থেকে প্রায় ২৫ লিটার করে ওষুধ এনে এলাকায় এলাকায় ছেটাতাম। এখন মশার উপদ্রবও বেশি বেড়ে গেছে। আমার কাছে আগের কিছু ওষুধ ছিল, তা দিয়েই কয়েকটি এলাকায় ছিটিয়েছি। এখন ওষুধ আর নেই। কর্পোরেশন থেকে না দিলে এই মুহূর্তে মশার কামড় থেকে স্থানীয়দের রেহাই দেয়া সম্ভব হবে না।’

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রতিবছর ৪১টি ওয়ার্ডে এক ড্রাম করে ওষুধ দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে তালিকা রয়েছে কোন কোন কাউন্সিলর কি পরিমাণ ওষুধ নিয়েছিল। এখন কেউ যদি বলে আমি ওষুধ পাইনি বা নেয়নি তবে তালিকা ধরে প্রমাণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের ঔষধে মশা মরবে৷ কারণ তা ল্যাব টেস্ট করা। কেন মশা মরবে না? এটির কার্যকারিতার গুণও ভাল।’

সিটিজিসান/ শিশির

Print This Post Print This Post