পদ্মা সেতু কিলোমিটারে দৃশ্যমান

আপডেট: ২৩ জানুয়ারী ২০১৯ ১২:৩০ অপরাহ্ন

অনলাইন | সিটিজিসান.কম

মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর | ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার ১২:৩০ পিএম |

পদ্মাসেতুতে সপ্তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে এক কিলোমিটারে রূপ নিলো নিজস্ব অর্থায়নে দেশের সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু। নতুন স্প্যান বসানোর ফলে সেতুটি ১ হাজার ৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো।

বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্প্যানটি ৩৬ ও ৩৭ নম্বর পিলারের ওপর বসানোর কাজ শুরু হয়। পরে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে স্প্যানটি বসানো সম্পূর্ণ হয়। এর আগে গতকালই কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে জাজিরার নাওডোবা প্রান্তে আনা হয় এটি।

পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ক্রেন ‘তিয়ান ই’ দিয়ে মাওয়া থেকে জাজিরা প্রান্তে আনা হয়। জাজিরা নাওডোবা প্রান্তের ৩৬ ও ৩৭ নম্বর পিলারের ওপর ধূসর রঙের স্প্যানটি বসানো হয়।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারের ওপর দ্বিতীয় স্প্যান, ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের ওপর তৃতীয় স্প্যান, ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারের ওপর চতুর্থ স্প্যান ও সবশেষ গত ২৯ জুন ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের ওপর পঞ্চম স্প্যান বসানো হয়। এছাড়া মাওয়া প্রান্তে ষষ্ঠ স্প্যান বসানো হয়। পুরো সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। একটি থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার।

পদ্মা সেতুর সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, লাগিয়ে সকাল থেকে এই স্প্যানটি বসানোর কাজ শুরু হয়। খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এর আগে থেকেই বিশেষজ্ঞ প্যানেল দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ওয়েট টেস্ট, ট্রায়াল লোড টেস্ট, বেজ প্লেট,পাইল পজিশন, মেজারমেন্টসহ আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়। স্প্যান বহনকারী ক্রেনটিকে পিলারের ৩৬ ও ৩৭ নম্বর পিলারের পজিশন অনুযায়ী রাখা হয়।

এরপর লিফটিং ক্রেনের সাহায্যে রাখা হয় পিলারের ওপর। পুরোপুরি স্থায়ীভাবে স্প্যান বসে যেতে সময় লাগবে আরও কয়েকদিন। বর্তমানে অস্থায়ী বেয়ারিংয়ের ওপর রাখা হয়েছে স্প্যানটিকে। ওয়েল্ডিং করে পাশের স্প্যানের সঙ্গে জোড়া দেওয়া হবে। দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় জটিলতা ছাড়াই সফলভাবে বসানো হয় স্প্যানটিকে। নাব্যতা সংকটের কারণে বাড়তি সময় লেগেছে স্প্যান বসাতে।

সিএস/সিএম/এসআইজে

Print This Post Print This Post