‘মদ খাইয়ে ধর্ষণ করেছিল পরিচালক সুভাষ ঘাই’

আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৮ ৬:১৯ অপরাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক | সিটিজিসান.কম

বলিউড:
বলিউডে চলছে #MeToo ঝড়। একের পর পড়ছে উইকেট পড়ছে। যত বড়ই তারকা হোন না কেন, তাদের কীর্তি ফাঁস হচ্ছে একের পর এক। তবে কতটা সত্যতা রয়েছে সেই সবের মধ্যে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে একাংশ। আর এই নয়া ঝড়ে এবার মুখোশ খুলে গেল আরও এক তারকার। বলিউডের স্বনামধন্য পরিচালক সুভাষ ঘাই। হ্যাঁ, #MeToo-র তালিকায় এবার তার নামও উঠে গেল।

কিন্তু কি করেছিলেন তিনি?

কলকাতা২৪ পত্রিকার খবরে বলা হয়, জনৈক এক নারী সুভাষ ঘাইকে নিয়ে ভয়ঙ্কর এক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন যা ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। তার দাবি, বেশ কয়েক বছর আগে যখন এই পরিচালকের সঙ্গে তিনি কাজ করছিলেন একটি ছবিতে, তখন সুভাষ ঘাই তাকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণ করে।

প্রথমে পরিচালক ওই নারীকে মিউজিক রেকর্ডিংয়ে নিয়ে যায়, যেখানে অনেক রাত পর্যন্ত তাকে বসিয়ে রাখা হয় অন্যান্য পুরুষদের মাঝে। রেকর্ডিং শেষ হলে তিনি হঠাৎই তার হাত ওই নারীর থাইয়ে (উরু) বোলাতে শুরু করেন, এবং বলেন, নারী ভালো কাজ করেছেন। এরপর স্ক্রিপ্ট শোনানোর জন্য লোখন্ডওয়ালাতে তার একটি অ্যাপার্টমেন্টেও ডাকেন। এই অ্যাপার্টমেন্টে তার স্ত্রী-র সঙ্গে থাকতেন না, এটি ছিল পরিচালকের ‘থিংকিং প্যাড’।

স্ক্রিপ্ট সেশনের দিন সুভাষ ঘাই নারীকে বলতে শুরু করেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে তাকে সবাই কত ভুল বোঝে, একমাত্র এই নারীই তাকে ভালোবাসে। এরপর কান্নার ভান করেন এবং নারীর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়েন। এরপর উঠে বসে নারীকে জোর করে কিস করার চেষ্টা করেন। হতভম্ব হয়ে তখনই সুভাষের অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ওই নারী।

তবে এরপরেও আর্থিক কারণে নারী ছবির কাজ থেকে পিছিয়ে আসতে পারেননি। তিনি আরও জানান, এক সন্ধ্যাতে মিউজিক সেশনের পরে, সুভাষ ঘাই ড্রিঙ্ক করবেন বলে মনোস্থির করেন। এবং নারীকেও অফার করেন। আর এরমধ্যেই কিছু মেশানো ছিল বলে তার দাবি। এরপর নারীকে বাড়ি পৌঁছে দেবেন বলে সুভাষ তার গাড়িতে উঠতে বলেন। নারীও সেই মতো গাড়িতে উঠে বসেন। কিন্তু সুভাষ তাকে একটি হোটেলে নিয়ে যায়।

কিছুটা আচ্ছন্ন অবস্থায় থাকা নারীকে সুভাষ একটি সুটে নিয়ে যায়। এরপর হোটেলের রুমে গিয়ে জোর করে নারীর জিনস্ খুলে দিয়ে তার ওপর জোর জবরদস্তি করতে থাকে। নারী চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখ হাত দিয়ে চেপে রাখে পরিচালক। পরের দিন তাকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যায় সুভাষ ঘাই।

এরপর কিছুদিন নারী কাজে না গেলে, সুভাষ তাকে জানায়, কাজ ছেড়ে দিলে তাকে তার প্রাপ্য পারিশ্রমিক দেওয়া হবে না। নারী জানান, এরপর ওই পরিচালকের সঙ্গে কখনও দেখা করার বা কথা বলার চেষ্টা করেননি তিনি।

সিএস/সিএম

Print This Post Print This Post