রোহিঙ্গারা জন্ম নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে অনীহা

আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজার :
রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের একেকটি মেডিকেল সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ১৩ থেকে ১৬ জন নারী ভর্তি হচ্ছেন গর্ভবতী অবস্থায়। সে হিসেবে কুতুপালং ও বালুখালীর ৫টি মেডিকেল সেন্টারে গড়ে ভর্তি হচ্ছেন ৭৫ জন নারী। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন-রোহিঙ্গাদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী দেয়া হলেও তা ব্যবহারের চরম অনীহা তাদের।

রোহিঙ্গা নারী দিলোয়াজ বেগম। নিজের হিসেব অনুযায়ী তার বয়স পয়ত্রিশ। সতেরো বছর বয়সে বিয়ে হওয়ার পর এখন আট সন্তানের জননী।

এরকম অসংখ্য দিলোয়াজের গল্প উড়ে কুতুপালং বা বালুখালীর শরণার্থী ক্যাম্প গুলোতে। গত একমাসে এখন পর্যন্ত প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। তাদের মধ্যে প্রায় সত্তর হাজার নারী ছিলেন সন্তান সম্ভাবা। এরই মধ্যে বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছে কয়েক হাজার শিশু। পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় আরো কয়েক হাজার শিশু। এ অবস্থায় চলতে থাকলে অচিরেই বাংলাদেশের কাঁধে চাপবে আরো লক্ষাধিক রোহিঙ্গার ভার।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় গর্ভাবস্থা কিংবা প্রজনন জনিত নানা সমস্যা নিয়ে ভিড় করছেন বেশিরভাগ নারী। রয়েছে অপুষ্টি ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগীও।

ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত বংশবৃদ্ধি ভাবিয়ে তুলছে তাদেরকেও।

বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সুপারভাইজার মো. মুকলেছুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘একেক জন রোহিঙ্গা পরিবারে পাঁচ থেকে শুরু করে দশ বারো জন সন্তান আছে। তারা পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে খুব একটা সচেতন না।’

রোহিঙ্গারা নিজে থেকে সচেতন না হলে কোনো উদ্যোগই সফল হবে না বলে মনে করেন তিনি। আর এর ফলে অনিয়ন্ত্রিত সন্তান জন্মদানের কারণে একদিকে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে এবং অপরদিকে দারিদ্রের দুষ্টু চক্রতে কাটছে তাদের জীবন।

রোহিঙ্গাদের সাথে একটু কথা বললেই বোঝা যায় পরিকল্পিত পরিবার কিংবা প্রজনন স্বাস্থ্য এসব বিষয়ে তাদের কোনো ধারণায় নেই তাদের

Print This Post Print This Post