টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন সাড়ে চার হাজার ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত

আপডেট: ৩০ মে ২০১৭ ১১:০৮ অপরাহ্ন

satkania-pic-620x330
কক্সবাজার, সিটিজিসান.কম :: ঘূর্নিঝড় মোরা’র তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কক্সবাজাররে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ। ঘূর্নিঝড়ের আঘাতে সাড়ে ৪ হাজার বসতঘর ও কয়েক লাখ গাছপালা বিনষ্ট হয়েছে। মাটির সাথে মিশে গেছে শত শত পানের বরজ। তবে কোন প্রানহানির খবর পাওয়া না গেলেও আহত হয়েছে ১৫ জনের মতো।

গতকাল সোমবার দিনগত রাত ২ টার পর থেকে টেকনাফে বাতাসের তীব্রতা বাড়তে থাকে। ভোর ৪ টার পর তা তীব্র আকার ধারন করে একটানা বইতে থাকে। সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলে মোরা’র এ তান্ডব। এতে হাজার হাজার কাঁচা ও আধাপাকা বাড়িঘর সম্পূর্ন ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। শত শত পানের বরজ সম্পূর্ন বিনষ্ট হয়ে যায়।

বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তারে বড় গাছপালা ভেঙ্গে বিদ্যুতের তার ছিড়ে যায়। আবার কোন কোন স্থানে বিদ্যুতের খুটি ভেঙ্গে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে মোবাইল টাওয়ার ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রায় সব অপারেটরের মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে টেকনাফের লোকজন।

বিদ্যুৎ ও মোবাইল সংযোগ না থাকায় দেশের অন্যান্য এলাকার সাথে যোগাযোগ বিহীন হয়ে পড়ে টেকনাফ। টেকনাফ কক্সবাজার সড়ক ও টেকনাফ থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নের যাতায়াতের সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও দুপুরের দিকে গাছ সড়িয়ে যান চলাচল শুরু হয়।

উপজেলার সাবরাং, টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানে সরেজমিন পরিদর্শনে ক্ষয়ক্ষতির এ অবস্থা দেখা গেছে।

সবচেয়ে বেশী ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে সেন্টমার্টিন ও সাবরাং ইউনিয়নে। সাবরাং ইউনিয়নে কয়েক হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পাশাপাশি হাজার হাজার গাছ পালা ভেঙ্গে যায় এছাড়া শত শত পানের বরজ বিনষ্ট হয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলার টেকনাফ সদর, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া ইউনিয়নেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, সেন্টমার্টিনে ৪০০ বাড়িঘর সম্পূর্ন ধ্বংস হয়েছে, আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৬০০ বসত বাড়ির, এছাড়া সেন্টমার্টিনে ৩০টি দোকান সম্পূর্ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আড়াই শো নারিকেল গাছ সহ প্রায় ২০ হাজার গাছপালা ও ১৫ শ গবাদি পশু ও হাঁস মুরগি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়ে ৪ হাজার পরিবারের জন্য জরুরী ত্রাণ সামগ্রী চাওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা জাহেদ হোসেন সিদ্দিক জানান, ঘুর্নিঝড় মোরা মোকাবেলায় উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করায় প্রানহানির ঘটনা ঘটেনি। এ দিকে ঘুর্নিঝড় মোরার প্রভাবে টেকনাফে সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হতে থাকে।

সিটিজিসান.কম/ফয়সাল

Print This Post Print This Post