
জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া করেসপন্ডেন্ট :: ৬৫ বছরে স্বীকৃতি মেলেনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ভাষা আন্দোলনের নায়ক আহত ভাষা সৈনিক আবুল কালামের। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই দাবিতে প্রথম মিছিল বের হয় রাঙ্গুনিয়ার মরিয়ম নগর থেকে। ভাষা সৈনিক আবুল কালামের নেতৃত্বে ৭০/৭৫ জন লোক মরিয়ম নগর সকাল বিকাল (বেয়ান) বাজার থেকে মিছিল নিয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী কাপ্তাই সড়কে পৌঁছলে তৎকালীন পাকিস্তানের অনুগতরা রাষ্ট্র ভাষা উর্দূ চাই শ্লোগানে একটি পাল্টা মিছিল নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হয় সৈয়দ আবুল কালাম। তখন তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলার খবর পেয়ে বাংলা ভাষা বাস্তবায়নের পক্ষের শতাধিক লোক মাইজ পাড়া থেকে নুর জাহান বালিকা বিদ্যালয়ে প্রতিবাদ সভা করে। প্রতিবাদ সভায় গুরুতর আহত সৈয়দ আবুল কালামের পিতা মাওলানা সৈয়দ আবদুল হক তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। তৎকালীন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলনে খবর থেকে তথ্যগুলো পাওয়া যায়।
যেভাবে ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় বাম রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। ভাষা আন্দোলনের চরম মুহুর্তে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনসভা ও প্রতিবাদ সভায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। প্রতিবাদ সভায় বলিষ্ট বক্তব্যের কারনে সেসময়ে ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া নেতাদের নজরে আসে। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারনে উত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া, হাটহাজারী ও চট্টগ্রামের কমিটির সাথে যুক্ত হয়ে আন্দোলনকে বেগবান করে তুলেন। এর ধারাবাহিকতায় নিজ গ্রাম মরিয়ম নগরেও ভাষা আন্দোলন কমিটি গঠন এবং সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই দাবিতে আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা রাখেন। আহত ভাষা সৈনিক সৈয়দ আবুল কালামের রাষ্ট্রীয়ভাবে ভাষা সৈনিকের মর্যাদা ও স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তার পরিবারসহ সচেতনমহল।
ভাষা সৈনিক আবুল কালামের পরিচিতি
মরহুম সৈয়দ আবুল কালামের জন্ম ১৯৩৩ সালে। পিতা মাওলানা সৈয়দ আবদুল হক। তিনি ১৯৫০ সালে রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক (এস.এস.সি), ১৯৫২ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ১৯৫৪ সালে কানুনগোপাড়া কলেজ থেকে স্নাতন ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ পুলিশ চট্টগ্রাম নগরের ডিআইবি অফিসে চাকুরির মধ্য দিয়ে তিনি তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু করেন। কর্ম জীবনে সৎ ও কর্মঠ এই মানুষটি ১৯৮৫ সালের শারিরীক অসুস্থতার কারনে স্বেচ্ছায় অবসরে যান। ১৯৯২ সালের ১৯ জুন ব্রেইন ষ্ট্রোক করে তিনি মারা যান।
ভাষা সৈনিক আবুল কালামের বড় সন্তান এস এম কাউসার প্রকৌশল বিদ্যায় ভর্তির সুযোগ পেলেও তার পিতার ইচ্ছায় মানব সেবা করতে মেডিক্যাল কলেজে ১৯৮৩ সালে ভর্তি হন। ১৯৮৯ সালে তিনি চিকিৎসক হিসেবে পার্বত্য এলাকার দূর্গম গ্রামে রাজস্থলী উপজেলা হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯০ সালে সরকারি চাকুরি ছেড়ে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজারে গরীব ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা দান অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে তিনি চন্দ্রঘোনা জেনারেল হাসপাতালে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post
