চট্টগ্রামের বাজারে বিক্রী ক্ষতিকর জেলি ভর্তি চিংড়ি

আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ ১:৪৮ অপরাহ্ন

168746_133
চট্টগ্রাম :: নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় বাসায় গিয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে চিংড়ি বিক্রি করছেন এক মাছ বিক্রেতা। ‘চিংড়ি মাছ’ ডাক দিতেই বেরিয়ে আসেন গৃহিণী নাসরিন আক্তার। নাসরিন চিংড়ি ধরেই বুঝতে পারেন, এতে ঘাপলা আছে। কিন্তু বিক্রেতা মানতে নারাজ।

নাসরিনকে চিংড়ি বিক্রেতা বলেন, আমিও জানি না কিছু আছে কি না, আমারও দেখা দরকার। পরে নাসরিন চিংড়ি খুলে ভেতরের জেলি বের করে দেখান। এরপর ওই বিক্রেতা আর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

একপর্যায়ে নাসরিন ওই চিংড়ি বিক্রেতাকে বলেন, এই জিনিস খেলে মানুষ মারা যাবে না? এগুলো খেলে মানুষের কিডনি নষ্ট হবে, স্টমাক নষ্ট হবে, হার্ট নষ্ট হবে।

এরপর ওই নারী একটি বাটি ভর্তি সিলিকন জেলি বের করে মাপতে বলেন, দেখা যায়, এক কেজি চিংড়ি থেকে বের করার জেলির ওজন প্রায় আড়াইশ গ্রাম।

মাছ বিক্রেতা নাসরিনের স্বামী মানিক মিয়া ও তার তিন সহযোগীকে নিয়ে যান নগরীর বহদ্দারহাটে। যার কাছ থেকে পাইকারী চিংড়ি মাছ কিনেছেন তিনি। মাছ বিক্রেতার প্রশ্নে ক্ষিপ্ত হয়ে যান পাইকারী বিক্রেতা বাবর আলী।

চ্যালেঞ্জ ছুড়াছুড়ির একপর্যায়ে নাসরিনের স্বামী ও সহযোগীরা এক এক করে আড়তের চিংড়ি থেকেও বের করতে থাকেন জেলি। এরপরও দায়ভার মানতে নারাজ পাইকারী বিক্রেতা বাবর। তিনি দোষ দেন নগরীর সদরঘাটের আমদানিকারকের। কিন্তু তার কাছে যাওয়ার কথা বললে সেখানে যেতে নারাজ তিনি। এতে উপস্থিত অনেকে বুঝে নিয়েছেন এ কারসাজি বাবর আলীর। কিন্তু নিরুপায় সাধারণ মানুষ।

উপস্থিত অনেকে এ সময় বলেন, চিংড়ির ওজন বাড়াতে ইনকেজশন দিয়ে জেল ঢুকানোর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। চিংড়ির গায়ের রঙের এসব জেলি সহজে বোঝা না যাওয়ায় ঠকছে ক্রেতারা। মূলত একটু বড় আকারের চিংড়িতে এই জেল বেশি ব্যবহার করছেন বলে জানান ক্রেতারা।

ক্রেতারা জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীর সবচেয়ে বড় বাজার বহদ্দারহাট, কাজীর দেউরি, চকবাজার, খাতুনগঞ্জ, এনায়েত বাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার, বিবিরহাট, পাহাড়তলিসহ বিভিন্ন বাজারে ক্ষতিকর জেলিভর্তি চিংড়ি মাছ বিক্রী হলেও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আজও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে জেল ভর্তি চিংড়ি মাছ বিক্রীর প্রবণতা বাড়ছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক পরিতোষ চক্রবর্তি এ প্রসঙ্গে বলেন, সিলিকন জেলি কোন খাদ্য উপাদান নয়। এ জেলি পেটে গেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তো হবেই। ক্রমে ক্ষতি হবে হার্ট ও কিডনীর।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সমস্যার কথা বাদ দিন, এমন একটা জিনিস কেন মাছে দিতে হবে? এটা তো নৈতিকভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ওজন বাড়িয়ে কিছু লাভের জন্য মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে মাছ বিক্রেতারা। এদের বিরুদ্ধে তো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সরেজমিনে বাজারে আলাপকালে মাহবুবুর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, আমি বাংলাদেশের মানুষ ভাবতে আমার বমি আসছে। দুধের মধ্যে শ্যা¤পু, চিংড়ী মাছে সিলিকন জেলি আরও কত অখাদ্যকে খাদ্যে পরিণত করছে অমানুষের দল।

মামুন স্ট্যালিন বলেন, তিনি বাজার থেকে দুই কেজি গলদা চিংড়ি কিনে প্রত্যেকটি মাথায় ভিতর এই জেলি পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, তাই মাছ আলাকে থাপ্পড় দিতে গিয়েছিলাম। ও বলছে যে ভাই আমি কিচ্ছু জানি না এ ব্যাপারে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রহমান সানি বলেন, অনেক দিন শুনে আসছি চিংড়ি মাছের ওজন বাড়াতে জেলি ঢুকানো হচ্ছে। বিষয়টি আমরা নজরে রেখেছি। এ ব্যাপারে শিগগীর ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সিটিজিসান.কম/রবি

Print This Post Print This Post