এস আলমের বিদ্যুৎ প্রকল্পে আবার সংঘর্ষ, নিহত ১

আপডেট: ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

Banshkhali

চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের নির্মিতব্য আলোচিত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতবিনিময় সভায় দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১২ থেকে ১৩ জন গ্রামবাসী।

গুরুতর আহত ৫ জনকে বাঁশখালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান, বাঁশখালিতে সংঘর্ষের ঘটনায় আজ বুধবার বিকেলে গুরুতর আহত মো. আলী ও মো. ইউনুছকে হাসপাতালের ২৮নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু রাত ১১টায় চিকিৎসাধীন থাকার সময় মারা যান মো. আলী।

গ্রামবাসীরা জানান, এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার লিমিটেডের কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির পাওনা নিয়ে নৌবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে আজ বুধবার দুপুর ১২টায় মতবিনিময় সভা হয়। এতে লেয়াকত গ্রুপ ও মোস্তফা গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁেধ। সংঘর্ষে দু‘গ্রুপের লোকজন একে অপরকে ইট-পাথর নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা নিয়ে মারধর করে। এতে ১২ জনের মতো আহত হয়। জখম হয় ৭-৮ জন গ্রামবাসী।

বাঁশখালী থানার ওসি মো. আলমগীর সংঘর্ষের সত্যতা স্বীকার বলেন, সভায় লিয়াকত ও মোস্তফা গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে মো. আলী (৩০), মো. ইউনুছ (৪৫), জামাল হোসেন (৩৫), আবু সৈয়দ (২৫), আবছার (২৮) মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫), কবির আহমদ (৩০) সহ ১২-১৩ জন আহত হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভা চলাকালীন সময়ে লেয়াকত গ্রুপের লোকজন শো-ডাউন করে। এতে মোস্তফা গ্রুপের লোকজন তাদেরকে এস আলম গ্রুপের দালাল বলে আখ্যায়িত করে বাঁধা দেন। ফলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় নৌবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও সভা পন্ড হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মো. মোস্তফা গ্রুপের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিএনপি নেতা লেয়াকত প্রকল্পের শুরুতে গ্রামবাসীর জমিজমা রক্ষার স্বার্থে এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে ছিল। এ নিয়ে পুলিশের সাথে একাধিক সংঘর্ষ হয়েছে। মারা গেছে ৫-৬ জন গ্রামবাসী। কিন্তু টাকা খেয়ে তিনি এখন এস আলম গ্রুপের দালালি করছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা লেয়াকত হোসেন বলেন, আমি কোন সময় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপক্ষে ছিলাম না। গ্রামবাসীর জমি অধিগ্রহণের ন্যায্য পাওনার পক্ষে ছিলাম। পাওনা পরিশোধে আজ মতবিনিময় সভায় বসেছিলাম আমরা। সেখানে মোস্তফা গ্রুপের লোকজন এসে হামলা চালিয়েছে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানান তিনি।

সিটিজিসান.কম/রবি

Print This Post Print This Post