অনলাইন ডেস্ক ::
আফগানিস্তানের তারুণ্যের প্রতীক, পিছিয়ে পড়া, নির্যাতিত, দুর্ভাগা আফগান নারীদের রোল মডেল! নিজে নির্ভীক হয়ে দেশকে নন্দিত করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা ছিল।
সব প্রত্যাশায় পানি ঢেলে পিঠ টান দিলেন আফগানিস্তানের প্রথম নারী বিমানচালক নিলুফার রাহমানি (২৫)। ‘নিরাপত্তাহীনতার’ কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থনা করে তিনি দেশে তীব্র হতাশা এবং সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন।
১৫ মাস আগে প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান নিলুফার। তাঁর গত সপ্তাহে দেশে ফেরার কথা ছিল। একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে তিনি জানান, আফগানিস্তানে তাঁর প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। দেশে ফিরতে চান না তিনি। অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এ খবর। অনেকেই নিলুফারের এই সিদ্ধান্তকে দেখছেন বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে। সরকারের পক্ষ থেকেও সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রাদমানেশ বলেন, ‘তিনি তাঁর দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন—এটা লজ্জাজনক। ’
২০১৩ সালে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয় নিলুফারকে। সেনাদের জুতা, চোখে রোদচশমা, খাকি পোশাক—সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের প্রেক্ষাপটে স্বপ্নের মানুষ বানিয়ে তাঁকে সংবাদ মাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হয়। গত বছর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘ওম্যান অব কারেজ’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে। আফগান নারীদের চোখে তিনি রীতিমতো আইকনে পরিণত হন। খ্যাতির সঙ্গে একই স্রোতে আসতে থাকে আতঙ্ক, প্রাণনাশের হুমকি।
তবে নিলুফার নিরাপত্তাহীন ছিলেন আফগানিস্তানে থাকার সময় থেকেই। গত বছর কাবুলে থাকাকালে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সব সময় সঙ্গে অস্ত্র রাখেন তিনি। বিমানঘাঁটির বাইরে যেতে হলে কখনো উর্দিতে থাকেন না। যুক্তি যাই হোক বিষয়টি মানতে পারছেন না আফগানরা। ফটোজার্নালিস্ট মারিয়াম খামোশ তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রিয় নিলুফার, আপনি কি মনে করেন আপনার সমস্যা আরো লাখো আফগান নারীর চেয়ে বড় কিছু? মাঝেমধ্যে আমার মনে হয়, নিলুফার হলে আমি আকাশ ছুঁতে পারতাম, বোমা ছুড়তাম আমার জনগণের শত্রুদের ওপর। কিন্তু নিলুফার আপনি, আমার ছাই হয়ে যাওয়া দেশের মাটি থেকে আকাশে উড়ে আমাদের পতাকাকে অসম্মান করেছেন!’
ন্যাটো নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীও কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। নিলুফার তাঁর বিবৃতিতে বলেছিলেন, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ‘নিকৃষ্ট থেকে নিকৃষ্টতর’ হচ্ছে। তাঁর এই দাবির প্রেক্ষিতে ন্যাটো বাহিনী জানায়, ‘আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর উন্নতি হচ্ছে। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ তে তাদের দক্ষতা বেড়েছে। ২০১৭ সালে আরো বাড়বে। ’
তবে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণেই আফগান তরুণরা এখন বিদেশমুখী। নিলুফার তারই একটি দৃষ্টান্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিলুফারের সমর্থকদেরও দেখা পাওয়া গেছে। এক আফগান পুরুষ তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘জারদাদের (আফগান যুদ্ধবাজ নেতা) মতো লোকেরা কাবুলের রাস্তায় স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ পেলে নিলুফারেরও অধিকার আছে দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post

