হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাওয়া মানে ট্রাকের নিচে মাথা রাখা

আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬ ৫:৪৭ অপরাহ্ন

1-39

অনলাইন ডেস্ক :: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মনে করছেন সেখানে ভোট চুরি হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি মরেও যায় নাই, পচেও যায় নাই। নারায়ণগঞ্জে যেখানেই গিয়েছি দেখেছি বিএনপি আর বিএনপি।’

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ভয়েস অব ডেমোক্রেসি (ফেলো) নামের একটি সংগঠন আয়োজিত ‘‘শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকালীন সরকার: প্রেক্ষিত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন’’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

ভোট চুরি হওয়ার অভিযোগের পক্ষে যুক্তি দিতি গিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীরা নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে বেশি জয় লাভ করেছেন। মানুষ কাউন্সিলরদের লাউ-কুমড়া মার্কায় ভোট দিল, আর ধানের শীষে ভোট দিল না এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?’

গয়েশ্বর বলেন, ‘এবার ভোট ডাকাতি হয়নি। দিনের আলোতে যা ঘটেছে তা সুন্দর ছিল। কিন্তু রাতের ঘটনা অজ্ঞাত। ভোট চুরি হয়েছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে ইলেকশন ফেয়ার বাট রেজাল্ট আনফেয়ার। ব্যবধানটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। অথচ নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনই বরাবর বিএনপি পেয়ে আসছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সব আসনে বিএনপি পাস করে।’

নির্বাচনের আগে টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে গয়েশ্বর বলেন, ‘“আমি তখন বলেছিলাম- এখনো এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে প্রশাসনকে দোষারোপ করা যায়। তবে এত ভালো পরিবেশও ভালো লাগছে না। এত সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছে এতে সন্দেহ হয়। প্রথম অপকর্মের কৌশল পরে আর অনুসরণ করা হয় না। সরকার সেটাই করেছে।’

গয়েশ্বর আরো বলেন, ‘ফলাফল ঘোষণার আগে সাত কেন্দ্রের ভোট অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম প্রকাশ করলো। অসমর্থিত সূত্র কারা? সোর্স আর সরকারের তথ্য এক হয়ে গেল?’

গয়েশ্বর আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনকে এত স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে তারা যা ইচ্ছা তাই করছে। হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাওয়া আর ট্রাকের নিচে মাথা রাখা একই কথা। আত্মহত্যা মহাপাপ। এই পাপ কি করা যায়? প্রমাণবিহীন চুরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকদের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া যায়। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে জাতীয় নির্বাচনে যাব। দরকার একটা নিরপেক্ষ সরকার।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা জিল্লুর রহমান রিন্টুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ, কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

সিটিজিসান.কম/রবি

Print This Post Print This Post