হতদরিদ্রের ১০ টাকা মূল্যের চাল পাচারের অভিযোগ!

আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৬ ৯:৫৬ অপরাহ্ন

coxbazar

ঈদগাঁও করেসপন্ডেন্ট ::
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে হতদরিদ্রের ১০ টাকা মূল্যের চাল কালো বাজারে পাচারের ঘটনা মোটা অংকের বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় সাধারণ লোকজনের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। উক্ত ডিলারের আওতাভূক্ত ওয়ার্ডের মেম্বারদের রহস্যজনক ভূমিকা ও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে এ চাল পাচারের ঘটনা মোটা অংকের বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সংবাদ পেয়ে ঘটনার দিন বিকালে খাদ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলাকাবাসীর দাবী অনুযায়ী গুদামে বরাদ্ধকৃত চালভর্তি বস্তা মজুদ ছিল না বলে জানান উক্ত কর্মকর্তা।

সরকার হতদরিদ্রদের জীবন যাত্রার মানোন্নয়নে ১০ টাকা মূল্যের চাল ডিলারশীপের মাধ্যমে বিতরণের সিদ্ধান্তের আলোকে ঈদগাঁও ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব পায় ভাদিতলা এলাকার মৃত ছগির আহমদের ছেলে সোহেল উদ্দীন। নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে চাল ছাড় করলেও যথাসময়ে কার্ড প্রদত্তদের মাঝে বিতরণ না করে নানা ছল ছাতুরীর আশ্রয় নেয়।

উল্লেখ্য, বিগত ৪ নভেম্বর সরকারের বরাদ্ধকৃত ১০ টাকা মূল্যের উক্ত চাল কক্সবাজার সদরের খাদ্যগুদাম থেকে ছাড় করে ট্রাকযোগে কালিরছড়া ডিলারের গুদামে জমা করে। হঠাৎ ৬ নভেম্বর গভীর রাতে একটি মালবাহী গাড়িতে করে আনুমানিক ২ শতাধিক বস্তা চাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। পরদিন সকালে গুদামে অল্প সংখ্যক চাল দেখে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে চালের খোঁজ নিতে চেষ্টা করে। এ নিয়ে জনতা ও ডিলারপক্ষের মধ্যে তীব্র বাক বিতন্ডা হয়। উত্তেজিত এলাকাবাসীর চাপের মুখে গুদামটি দ্রুত বন্ধ করে দেন সহকারী আব্দুর রশিদ।

এ ব্যপারে স্থানীয় ৫নং ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি কামাল উদ্দিন জানান ‘গত শুক্রবার পর্যন্ত গুদামে ২১৫ বস্তা চাল ছিল যা সে নিজে দেখেছে। সোমবার সকালে মাত্র অর্ধ শতাধিক চালের বস্তা দেখা যায়।

অথচ এর আগ পর্যন্ত কোন চাল বিতরণ না করার পরও এত অধিক সংখ্যক চালের বস্তা কোথায় গেল তা নিয়ে এলাকাবাসী জোর প্রতিবাদ করে। এ ঘটনা স্ব স্ব ওয়ার্ডের মেম্বারদের জানালেও রহস্যজনক কারণে তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে লোকজন অভিযোগ করে।

ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার গুদামে থাকা অবশিষ্ট চাল থেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হতদরিদ্রদের বিতরণ করলেও নির্দিষ্ট ৩০ কেজির স্থলে ২৫ কেজি দেয় বলে অভিযোগ তুলেছে ঐ ওয়ার্ডের কার্ডধারী তৈয়বা বেগম ও ছালেহা বেগমসহ অন্যরা। অবস্থা বেগতিক দেখে সরিয়ে ফেলা ২ শতাধিক বস্তা থেকে কিছু সংখ্যক চালভর্তি বস্তা গুদামে পুনরায় মজুদ করলেও সিংহভাগ চালের অবস্থা কি এখনো জানা যায়নি।

এ ঘটনা জানতে ঈদগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি অবগত হয়েছেন বলে জানান। সরকারের এ যুগান্তকারী পদক্ষেপ ব্যাহতের ঘটনায় জড়িত ডিলারের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভূক্তভোগীরা।

অভিযোগ উঠা ডিলার সোহেলের সাথে কথা হলে জানান, তিনি সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই এসব করেছেন এবং নিজেকে যুবলীগ নেতা বলে দাবী করেন।

অপরদিকে ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ইলিয়াছের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, সে যুবলীগের কেউ নয়, সে জামায়াত-বিএনপির লোক হয়েও পরিকল্পিতভাবে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এসব করে যাচ্ছে।

সিটিজিসান.কম/রবি

Print This Post Print This Post