সাতকানিয়ায় নদীর ভাঙন থেকে গ্রাম রক্ষায় বাঁধ দিলেন কেএসআরএম

আপডেট: ৮ জুলাই ২০১৮ ১২:১৯ অপরাহ্ন

ইব্রাহিম খলিল :
গ্রাম রক্ষায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার খরস্রোতা ডলু নদীর ভাঙন রোধে বাঁধ দিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ কেএসআরএম। এতে রক্ষা পেয়েছে উপজেলার দক্ষিণ গাটিয়া ডেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাঙ্গরমুখ বাজার, সড়ক ও গ্রামের হাজারও মানুষের বাড়িঘর।

যা রক্ষার জন্য বছরের পর বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সমাজ সেবকদের কাছে আবেদন নিবেদন করেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে জানান গ্রামবাসীরা। অবশেষে কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করায় এলাকার মানুষ স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের পূর্ব গাটিয়া ডেঙ্গা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহমান উজান থেকে নেমে আসা খরস্রোতা ডলু নদী। এ নদীর ভাঙনে বছরের পর বছর বিলীন হয়েছে গ্রামটির শত শত ঘরবাড়ি।

ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও সহস্রাধিক ঘর-বাড়ি, বিদ্যালয় ও মসজিদ। যা রক্ষায় কয়েক যুগ ধরে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, সমাজ সেবক ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন-নিবেদন করে আসছে গ্রামের মানুষ। তাতে কোন প্রতিকার না পেয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ কেএসআরএম লিমিটেডের স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ শাহজাহানের সাথে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি নজরে আনেন তিনি। এরপর ডলু নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘ গাইড ওয়াল (প্রতিরোধ দেয়াল) স্থাপন ও বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেন কেএসআরএম।

স্থানীয় লোকজন আরও জানান, কেএসআরএম অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে ভাঙন রোধে প্রথমত ডলু নদীর তলদেশ খনন করেন। এরপর লোহার নেট বসিয়ে কংক্রিটের ঢালাই করেন। সিমেন্ট ও বালির মিশ্রণ তৈরি করে বড় বড় বস্তায় ভরে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করে গড়ে তোলা হয় চওড়া বাঁধ। পরে ওই বাঁধের ভেতরের অংশে ভরাট করা হয় বালি। এভাবে নদীর গর্ভ থেকে বিশাল এলাকা উদ্ধার ও ভাঙন ঠেকানো হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে মোহাম্মদ শাহজাহান ব্যক্তিগত খাত থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেন। এতে পুরো গ্রামের বিশাল এলাকা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি অংখ্য মানুষ তাদের পূর্ব পুরুষের ভিটা বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করছেন। রক্ষা করেছেন মাথা গুজার ঠাঁই। এতে এলাকার হাজারও মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। ভাঙন রোধে দেওয়া বাঁধ এলাকার দৃষ্টিনন্দন বিনোদন ¯পট হয়ে উঠেছে এখন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেএসআরএম লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহরিয়ার জাহান বলেন, ডলু নদীর ভাঙন রোধে আমাদের যে কাজ, তা করেছি গ্রামের বিশাল এলাকাকে নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করে অসহায় মানুষের ভিটি বাড়ি রক্ষার জন্য। আমাদের সেই উদ্যোগ সফল হয়েছে। আমরা সেখানে শুধু ভাঙন রোধ করেই দায়িত্ব শেষ করিনি। তা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও করা হচ্ছে আমাদের পক্ষ থেকে।

প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার জাহান বলেন, ব্যয় কত হয়েছে তা জানানোর প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করছি না। আমরা যা কিছু করেছি বা করছি তা মানুষের কল্যাণের জন্য। তাদের সন্তুষ্টির মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের লক্ষ্য। লোক দেখানো কোনো সাহায্য আমরা কখনো করিনি। সুতরাং বিষয়টা অপ্রকাশিতই থাক।

নলুয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, কেএসআরএম লিমিটেডের মালিক শাহজাহান এলাকায় দানবীর হিসেবে পরিচিত। এলাকার যে কোনো সংকটে তিনি এগিয়ে আসেন ত্রাতার ভূমিকায়। এলাকার মূল সড়কটি নিয়মিত মেরামত করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখেন তিনি। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ডলু নদীর ভাঙন রোধ করে তিনি গ্রামের বিশাল এলাকাকে ডলুর করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করেছেন। সাধারণত এমন উদ্যোগ ব্যক্তি পর্যায়ে দেখা যায় না।

নলুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আহমদ মিয়া বলেন, আমাদের এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি কোনো সংস্থার অর্থের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। কেএসআরএম লিমিটেডের মালিক শাহজাহান নিজ উদ্যোগে এসব কাজ করে থাকেন। কিন্তু এসব কাজ তিনি করেন গোপনে। এ নিয়ে কোনো প্রচার প্রচারণা তিনি কখনো করেননি।

স্থানীয় সমাজসেবক আবদুল শুক্কুরের মতে, শাহজাহান সাহেব আমাদের পূর্ব গাটিয়া ডেঙ্গা এলাকার অভিভাবক। উনি না হলে আমাদের এ অজপাড়া গাঁয়ের নামও মানুষ নিত না। যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা খাতে এলাকাটি অবহেলায় থেকে যেত। উনার মহানুভবতার কারণে এলাকার মানুষ এখন অভাব দূর করে উন্নত জীবনযাপন করছে। ডলু নদীতে বাঁধ দেওয়ায় রক্ষা পেয়েছে হাঙ্গরমুখ বাজার, দক্ষিণ গাটিয়া ডেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাঠ, অসংখ্য দোকান ও গ্রামের বিশাল এলাকা। এলাকার মানুষ তার কাছে আজীবন ঋণী হয়ে থাকবেন। প্রায় একই কথা বলেন গ্রামের আবদুল আজিজ, জহির, মিন্টুসহ আরও অনেকে।

 

Print This Post Print This Post