প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্সের প্রতারণার ফাঁদে গ্রাহকরা!

আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০১৬ ৬:৫১ অপরাহ্ন

pragati-life-insurance

টেকনাফ করেসপন্ডেন্ট ::
কক্সবাজারের টেকনাফে উপজেলায় প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্সে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে পৌরসভার পুরান পল্লান পাড়ার সাবেক কাউন্সিলর ও সাবেক প্যানেল মেয়র রুবিনা আক্তার ও মোক্তার আহমদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হলো পল্লান পাড়ার অনেক অসহায় গরীব পরিবার।

এদিকে প্রতারণার শিকার এসব পরিবার মহিলাদের স্বামী তাদেরকে টাকার জন্য বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছে বলে তারা জানায়।

unnamed

২৮ নভেম্বর এ বিষয়ের উপরে প্রতারণার শিকার হওয়া মহিলারা প্যানেল মেয়রকে অভিযোগ দিতে গেলে মহিলাদের সামনে পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের টেকনাফ শাখার আজীবন সদস্যা, বিশিষ্ট সমাজসেবিকা কহিনুর আক্তার সংবাদিক সম্মেলনে জানায়, দীর্ঘ ১০ বছর আগে গরীব মহিলাগুলোকে দ্বিগুণ লাভ দেখিয়ে প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্সে ভর্তি করায় রুবিনা আক্তার।

পরে তাদেরকে ২ব ছর ও ১০ বছর মেয়াদী কিস্তিতে টাকা জমা করলে দ্বিগুণ লাভ পাওয়ার কথা বললে গরীব মহিলারা তার কথা অনুযায়ী টাকা দেয়। কিন্তু যখন বছর পুর্ণ হয়ে লাভসহ দ্বিগুণ পাওয়ার সময় হল তখন দেখা যাচ্ছে রুবিনা আক্তারের হাতে জমা দেওয়া টাকার অনেকটা রশিদও নেই এবং অনেক টাকা জমাও হয়নি।

ভুক্তভোগি আমিনা বেগম। তিনি প্রগতি ইন্সুরেন্সে দিয়েছিলেন ৬০ হাজার টাকা কিন্তু এখন তার একাউন্ট চেক করে দেখা যায় তার একাউন্টে আছে ২৩ হাজার টাকা। এই রকম আরও অনেক গরীব নিরীহ মহিলারা তাদের হয়রানির শিকার হয়েছে।

পুরান পল্লান পাড়ার রোকেয়া আক্তার লিজা তার স্বামী নেজাম উদ্দিন তিনি টাকা দিল ২৪ হাজার কিন্তু জামা রশিদে আছে ১৮ হাজার। ছলেমা খাতুন স্বামী আব্দুস সালাম দেওয়া ২৭ হাজার কিন্তু রশিদে আছে ২৩ হাজার সহ এই রকম আরও আছে।

এ প্রসঙ্গে পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের টেকনাফ শাখার আজীবন সদস্যা, বিশিস্ট সমাজসেবিকা কহিনুর আক্তার আরও জানান, আমি যখন নির্বাচনে দাড়ায় তখন তারা আমাকে এই দাবী তুলে দিয়েছিল টাকাগুলো উদ্ধারের জন্য। পরে আমি টাকা পাওনাদারদের থেকে একটা সময় নিয়ে সমাধানের জন্য রুবিনা আক্তারের সাথে অনেকবার যোগাযোগ করি। তখন রুবিনা আক্তার বারবার আমাকে ঢাকা, চিটাগাং বলে মোবাইল কেটে দেয়।

তাছাড়া মোক্তারের সাথে সমাধানের জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাকে উক্ত বিষয়ে মাথা না ঘামানোর জন্য বেশ কয়েকবার ঘুষ দেওয়ার কথা ও প্রগতির নামে কোন অফিস কেউ চিনে না বলে তিনি বলেন।

এছাড়াও এই সকল গরীব মহিলাদের ভোটের আগে দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী টাকা উদ্ধারের জন্য আমাকে আদালতসহ যেখানে যেতে হয় সেখানে যাব। আমার একটাই কথা যে, প্রতারণাকারীদের কবল থেকে টাকা উদ্ধার করতে হবে। যদি উদ্ধার করতে পারি তাতেই আসবে আমার স্বার্থকতা।

তিনি আরো বলেন, এমনকি এই প্রতারণাকারীদের ব্যাপারে সাংসদ আলহাজ্ব আব্দুর রাহমান বদি সিআইপি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসলামকে অবগত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সিটিজিসান.কম/রবি

Print This Post Print This Post