জাহাঙ্গীর আলম, টেকনাফ করেসপন্ডেন্ট :: সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত প্রবেশ করছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা। সীমান্তের দুই পাশেই আইন- শৃংখলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে অপেক্ষাকৃত দুর্গম পথ দিয়ে একেবারেই নি:স্ব অবস্থায় রাতের অন্ধকারে প্রবেশ করছে তারা।
এদের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যায় বেশি। গতকাল সোমবার গভীর রাতে নাফ নদী অতিক্রম করে আসা কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের কাছে ১৩ জনের একটি রোহিঙ্গা দলের সাথে কথা হয় আমাদের করেসপন্ডেন্টের সাথে।
এই দলটির সবচেয়ে কনিষ্ট ২৭দিন বয়সী কন্যা শিশু গভীর রাতে শীতের মধ্যে মা সাবেকুর নাহারের কোলে ক্ষুধার যন্ত্রনায় ছটফট করছিল। সন্তানকে খাবার দিবেন কি করে অসহায় এই মা, নিজেই যে গত ১৭ দিনে মাত্র ৩/৪ বার খেতে পেয়েছেন। গত ১১ নভেম্বর তারিখ তাদের মংডুর বড় গজিবিলের বাড়ীতে আক্রমনের পর থেকে নিখোঁজ সাবেকুনের স্বামী সেলিম।
জানতে চাইলে সাবেকুন নাহার সিটিজিসান.কমকে বলেন, এখন পর্যন্ত মেয়েটির একটি নামও রাখতে পারেননি। ওর বাবা তার নাম রাখবে বলেছিলো, তার আগেই আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। আমার স্বামী এবং তিন বছর বয়সী বড় মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছি না। নদী পার হওয়ার আগে সাতদিন তোতার দ্বীপে লুকিয়ে ছিলাম।
ঘুটঘুটে অন্ধকারের হেটে এসে নিকটবর্তী একটি বাড়ীর সীমানায় মালিকের আগোচরে সাময়িক যাত্রা বিরতি করা দলটির ছয়জনের বয়স ২৭দিন থেকে ১০ বছরের নীচে দুইজন বৃদ্ধ পুরুষ, একজন বৃদ্ধ মহিলা এবং দুইজন সদ্য প্রসূতি। সেখানে বাড়ীর মালিক তাদেরকে পানি ও সামান্য খাবার দেয়। একমাত্র কিশোর হাবিব উল্যাই বলতে গেলে ছিলো এই দলটির অবলম্বন।
হাবিব উল্যা সিটিজিসান.কমকে জানান, নাফ নদী পার হতে আমাদের ১৫ মিনিটের মত সময় লেগেছে। আমাদের সাথে আরো দুইজন শিশু ছিল। নৌকা ছোট হওয়াতে তাদেরকে অন্য আর একটি নৌকায় তোলা হয়েছিলো, এখন খুঁজে পাব কিনা জানি না।
বাড়ী ঘরে আগুন দেওয়ার পর বৃদ্ধ ইউনুস মিয়া ও নুর হোসেনের পরিবারের সদস্যরা উখিয়ার কুতুপালংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তার আগেই তাদের দুই যুবক ছেলে নিখোঁজ হয়েছে।
ইউনুস ও নূর হোসেন, ১৭ দিন আগে মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল। তারা আমাদের বেঁধে পিটিয়েছে। যুবক ছেলেদের ধরে নিয়ে গেছে। অনেক বেলা না খেয়ে ছিলাম। এক হাজার টাকা দিয়ে নদী পার হয়েছি, আরো প্রায় দুই হাজারের মত মানুষ ওই পথে বর্ডার পার হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
রাত প্রায় আড়াইটার দিকে এই দলটি টেকনাফের ওই স্থান থেকে উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে যায়। রোহিঙ্গাদের এই দলটি রাস্তায় এসে দাড়ানোর পর একটি খালি গাড়ী উখিয়ার দিকে যাওয়ার সময় তাদের তুলে নেয়।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post

