কর্ণফুলী প্রকল্পের পানি পাচ্ছেন নগরবাসী

আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৬ ৪:০৭ অপরাহ্ন

rangunia-wasa-pic

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া করেসপন্ডেন্ট :: দীর্ঘদিনের পানীয় জলের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। দূর হতে চলে নিদারুণ কষ্টের দিন। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নে বাস্তবায়নাধীন কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের উৎপাদন পুরোদমে শুরু হচ্ছে ২৫ নভেম্বর থেকে। এ লক্ষে প্রকল্পের বিশেষজ্ঞমহল ও প্রকৌশলীরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে গেছে এ প্রকল্প। ৩১ অক্টোবর থেকে এ প্রকল্প থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে পানি সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে। তবে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কারণে এখনো গ্রাহকদের কাছে পৌছেনি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২৫ নভেম্বর নগরবাসী কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের সুফল পুরোদমে ভোগ করতে পারবেন এমনটাই আশা করছেন ওয়াসা কর্তৃৃৃপক্ষ।

এ সময় এ প্রকল্প থেকে নগরবাসী প্রতিদিন (২৪ঘন্টা) ১৪ কোটি লিটার পানি পাবেন। এটি উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমনটিও জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহুরুল হক জানান, গত ৩১ অক্টোবর থেকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পের পানি সরবরাহের কাজ শুরু করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র পাইপলাইন ও অন্যান্য কারিগরি সমস্যা নিরূপন ও তা সংস্কারের জন্যে।

আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত এ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে। এরপর গ্রাহকদের কাছে পানি পৌছানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। আশা করা করছি ২৫ নভেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রামবাসী এ প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে পারবেন।

তিনি জানান, আমরা ১৫ নভেম্বরের মধ্যে পানি সরবরাহের কাজ সম্পূর্ণরূপে শেষ করতে চাই। এরপর ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই নগরবাসীর কাছে এ প্রকল্পের পানি পৌছাতে চাই। ১৫ নভেম্বর প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পর আমরা মন্ত্রণালয়কে জানাবো। মন্ত্রণালয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সিডিউল নিয়ে এ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করার তারিখ নির্ধারণ করবেন। তবে তা এ মাসের শেষ সপ্তাহেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, নগরীতে বর্তমানে ওয়াসার পানির চাহিদা রয়েছে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার।

কিন্তু ওয়াসা সরবরাহ করতে পারে কেবল ১৮ থেকে ২০ কোটি লিটার। ফলে নগরীতে সারা বছরই পানির সমস্যা লেগে থাকে। সংকটের এ সময়ে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের উৎপাদন শুরু হলে নগরীতে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি যুক্ত হবে। এতে পানি সমস্যা অনেকটা কেটে যাবে বলে তিনি জানান।

পানি সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বৃহত্তর আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকায় পানি সরবরাহ করা হবে।

পরবর্তীতে ধীরে ধীরে টাইগার পাস, নিউমার্কেট, কোতোয়ালী, সিরাজুদ্দৌল্লাহ রোড, আন্দরকিল্লা, জামাল খান, চকবাজার, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, কাতালগঞ্জ, শুলকবহর, বহদ্দার হাট, মুরাদপুর এলাকায় সরবরাহ করা হবে। আর সবশেষে পানি পাবে ষোলশহর দুই নম্বর গেইট, চশমা পাহাড়, রহমান নগর, বায়েজীদ, হামজার বাগ, মোহাম্মদপুর, বিবির হাট, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, রৌফাবাদ হয়ে অক্সিজেন পর্যন্ত এলাকার মানুষ।

তবে স্বল্প সময়ের মধ্যেই এসব এলাকায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। গতকাল বুধবার বিকেলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্পে

সরজেমিন পরিদর্শনে গেলে সেখানে দেখা যায়, শ্রমিকরা একটানা কাজ করে চলেছেন। সাথে রয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

তারা জানান, কর্তৃপক্ষ এ মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ করে নগরীতে শতভাগ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চলেছেন। ইতোমধ্যে এ প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহের যাবতীয় কাজ শেষ হয়েছে। এ মাসের মাঝামাঝি থেকে এ প্রকল্প থেকে পুরোদমে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তারা বলেন, উপজেলার গোডাউন পৌর এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে পানি উত্তোলনের পর তা এখানে পানি শোধনাগার প্রকল্পে এনে লাইম, এলাম ও ক্লোরিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধন বা জীবাণুমুক্ত করে তা নগরীর নাসিরাবাদ এলাকায় রিজার্ভারে পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকে পরীক্ষামূলকভাবে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি সরবরাহ চলছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২৫ নভেম্বরের মধ্যে পুরোদমে পানি সরবরাহ শুরু হবে।

জানা যায়, দৈনিক ১৪ কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১১ সালে। জাপানের জাইকা, বাংলাদেশ সরকার ও ওয়াসার যৌথ অর্থায়নে এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮শ’ ৪৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে দিচ্ছে জাইকা ৯শ’ ৪০ কোটি ৩০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকার ৮শ’ ৮৪ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা দিচ্ছে ২৪ কোটি টাকা।

প্রকল্পের অধীনে ৬৯ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইন এবং তিনটি জলাধার নির্মাণ করেছে ওয়াসা। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের শান্তির হাট এলাকায় ৩১ দশমিক ৫৫ একর জায়গায় পানি শোধনাগার ও ইনটেক ফ্যাসিলিটিজ এবং পোমরার অদূরে নোয়াগাঁও পৌর এলাকার গোডাউন এলাকায় ১ দশমিক ৭১ একর ভূমিতে প্রকল্পের ইনটেক স্ট্রাক্টচার নির্মাণ করা হয়।

এদিকে সেই ১৯৮৮ সালে ওয়াসার সর্বশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। বিগত ২৯ বছরে ওয়াসার নতুন আর কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। শুধুমাত্র গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানি সংকট সামাল দেয়া হয়েছে। ইতোপূর্বে বিভিন্ন সরকারের আমলে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও কোন প্রকল্পই আলোর মুখ দেখেনি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওয়াসা বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরমধ্যে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প অন্যতম। ১৯৮৭ সালে মোহরা পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নের ২৯ বছর পর চালু হতে যাচ্ছে এ প্রকল্পটি। যা নগরবাসীর পানির সঙ্কট নিরশন করবে অনেকটাই।

সিটিজিসান.কম/রবি

Print This Post Print This Post