শাহ আলম, কক্সবাজার করেসপন্ডেন্ট ::
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় এক চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় নির্বিচারে পাহাড় কেটে পল্ট্রি ফার্মের খামার ও ঘর তৈরি করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লঠ উখিয়ার ঘোনা উত্তর টিলা পাড়া এলাকায় বনজঙ্গল নিধন করে পাহাড় কেটে পল্ট্রি ফার্মের খামর ও ঘর তৈরি করছেন স্থানীয় প্রবাসী গিয়াছ উদ্দিন ও মৃত কবির আহম্মদের পুত্র মেহের আলী।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের রামু বাকখাঁলী রেঞ্জ অফিসের বিট কর্মকর্তা সমির রঞ্জন শাহ নিদের্শে বনপ্রহরী মামুন মিয়া ও মোশারফ স্থানীয় সাংবাদকর্মীসহ পাহাড় কাটার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে বনপ্রহরী মামুন মিয়া ও মোশারফ পাহাড় কাটা বন্ধসহ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ঘর নির্মাণ করার পরামর্শ দেয়।
এসময় কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহম্মদ তার দরবল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বনপ্রহরী ও সাংবাদকর্মীদের উপর চড়াও হয় এবং বিভিন্ন অকট্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
চেয়ারম্যান মোস্তাক বনপ্রহরীদের হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তার ইউনিয়নের পাহাড় কাটা ও বনজঙ্গল নিধনসহ যে কোন বিষয়ে তার স্বরণাপন্ন হয়ে অভিযান করার জন্য। এবং তিনি সাংবাদকর্মীদেরও একই হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভবিষ্যতে তার ইউনিয়নের অপরাধ সংঘটিত যে কোন বিষয় নিয়ে এলাকায় সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার আগে তার অনুমতি নেওয়ার জন্য।
তিনি স্থানীয় লোকজনকে বলেন, অনুমতি ছাড়া কিউ তার ইউনিয়নে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ঐসব সংবাদকর্মীদের আটক রাখার জন্য নিদের্শ দেন। তার এহেন আচরণ দেখে উপস্থিত জনসাধরনের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেয়।
উল্লেখ্য গত রবিবার (১৩ নভেম্বর) স্থনীয় দৈনিক রুপসীগ্রাম পত্রিকায় ঐ চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় উখিয়ার ঘোনা টিলা পাড়ায় নির্বিচারে পাহাড় কাটার খবর প্রকাশিত হয়। পরে এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়ও খবর প্রকাশিত হয়।
এসব প্রভাবশালীদের ইন্ধনের কারণে প্রনিয়ত পাহাড় কাটার ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিস্বাধিত হচ্ছে তেমনি জলোচ্ছাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মত ঘটনায় প্রতি বছর ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তাই এসব প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় এনে পাহাড় কাটা বন্ধ করে পরিবেশ সমুন্নত রেখে জলোচ্ছাস ও প্রাকৃতিক দুর্যো থেকে রেহাই দিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট্য প্রসাশনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এব্যাপারে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম রামু’র কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে পাহাড় কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, যে সমস্ত এলাকায় পাড়ার কাটার মত জঘণ্য অপরাধ করে পরিবেশের ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
জানতে চাইলে রামু উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহিদুল ইসলাম জানান, পাহাড় কাটা নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল বুধবার উপজেলার সব চেয়ারম্যানগণদের সাথে বৈঠক হয়েছে এবং চেয়ারম্যান মোস্তাক সাথেও পাহাড় কাটা বিষয় নিয়ে আলাপ হয়। তিনি পাহাড় কাটা বিষয় এ অস্বীকার করায় উপজেলা সার্ভেয়ারকে পাহাড় কাটা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পাঠায়। সার্ভেয়ার পাহাড় কাটার সত্যতা পেলেও ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করতে পারেনি। পরবর্তীতে পাহাড় কাটা হলে সাথে সাথে অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post

