জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া করেসপন্ডেন্ট :: সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয়মুখ প্রতিভাময়ী কন্ঠশিল্পী তাজরীভা আলম স্বর্নালী। কন্ঠের অপুর্ব দূত্যনায়, সুরের মোহনীয় রূপে ইতিমধ্যেই চট্টগ্রামে নিজের স্থান গড়ে তুলেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে সম্মান প্রথম বর্ষের এই ছাত্রী।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মুরাদনগর এলাকায় তার বেড়ে ওঠা। শিল্পী স্বর্নালীর সঙ্গীতে হাতেখড়ি পারিবারিকভাবেই। বাবা বদিউল আলম ও মা রুনা আক্তারের অনুপ্রেরণায় সঙ্গীতে পথচলা তার। শৈশব থেকেই সুরের তান তার মনকে নাড়া দিতো আর মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতেন বিখ্যাত সব সঙ্গীত।
মাত্র ৫ বছর বয়সে রাঙ্গুনিয়া সুরাঙ্গন সংগীত বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক সেলিম মাহামুদেরর কাছে স্বর্ণালী বিখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী আবদুর রহিমের তত্বাবধানে চার বছর মেয়াদী সংগীত কোর্স সমাপ্ত করেন।
এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তালিম নেন বিশিষ্ঠ সংগীত শিক্ষক গিয়াস উদ্দীন কাজল, সংগীত শিল্পী রাতুল বৈদ্য এবং জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক ঝুলন দত্তের নিকট। বর্তমানে বিখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষক রাজেশ সাহার কাছে উচ্চাঙ্গ ও নজরুল সংগীত বিষয়ে তালিম গ্রহণ করেছেন তিনি। আধুনিক, নজরুল, ফোক গান, ব্যান্ড সংগীত সহ সংগীতের অনেক শাখায় তার সুরেলা কন্ঠের পরিবেশনা এতদঅঞ্চলে তাকে এনে দিয়েছে বিরাট সাফল্য।
২০১৫ সালে বাংলাদেশ বেতার রাঙ্গামাটি কেন্দ্রে আধুনিক গানে তালিকাভুক্ত হয় এবং চট্টগ্রামের যন্ত্র সংগীত শিল্পী সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত সংগীত প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় সে প্রথম ১৫ জনের মধ্যে থেকে নিজের প্রতিভাকে আরো বিকশিত করে। চট্টগ্রাম, কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া, রাউজানসহ অনেক অনুষ্ঠানে এখন সে নিয়মিত ভাবে মঞ্চ অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। সংগীতের এই পথচলায় স্বর্ণালী অর্জন করেছেন উপজেলা, জেলা এবং বিভাগ পর্যায়ে অসংখ্য পুরস্কার।
২০০৪ সালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় পুরস্কার প্রতিযোগিতায় দেশের গানে প্রথম হবার মাধ্যমে তার সংগীত জীবনের পুরস্কার প্রাপ্তি শুরু হয়। এরপর মৌসুমী প্রতিযোগিতা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সুর্বণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সংগীত প্রতিযোগিতা, শিশু কিশোর সংগঠন খেলাঘর কর্তৃক আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিষয়ে সে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেন।
সুরের মুর্চনায় বেড়ে ওঠা শিল্পী তাজরীভা আলম স্বর্নালী বলেন, ‘সংগীতেই আমার পথচলা। এই পথচলায় সবসময় পরিবারের সমর্থন পেয়ে চলেছি। আমার সংগীত গুরুদের সহযোগীতায় এখন নিয়মিত বিভিন্ন মঞ্চে গান পরিবেশন করছি। ভালই লাগে যখন দেখি সবাই গানের তালে মাথা দোলিয়ে গান উপভোগ করে আর শেষ হলে হাততালি দিয়ে উষ্ণ অভিনন্দন জানায়।
সংগীতে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এখন যেকোন মঞ্চে জনপ্রিয় বিভিন্ন গানের পাশাপাশি আমি বিভিন্ন হারানো দিনের গান পরিবেশন করে থাকি। এতে বেশ সাড়াও মিলছে।’ ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গানের পাঠ চুকিয়ে স্বর্নালী নতুন নতুন গানের অ্যালবাম রেকর্ড করতে চাই।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post

