রাঙ্গুনিয়ায় জেএসসি পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা, পালানোর পথ খোঁজছে লম্পট!

আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৬ ২:১৭ অপরাহ্ন

লম্পট মো.আবদুল মান্নান
লম্পট মো.আবদুল মান্নান

রাঙ্গুনিয়া করসেপন্ডন্টে :: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জেএসসি এক পরীক্ষার্থী কিশোরীকে ধর্ষনকারী লম্পট মো.আবদুল মান্নান (২২) মধ্যপ্রাচ্যের ওমানে পালানোর চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আগামী ১৪ নভেম্বর (২০১৬) তার ওমানে ফেরার পূর্ব নির্ধারিত ফ্লাইটের সিডিউল ছিল বলে জানা গেছে।

ধর্ষন মামলার আসামী হবার পর ১৪ নভেম্বরের আগেই যাতে সে দেশ ছাড়তে পারেন তার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন পরিবারের লোকজন। ধর্ষিত স্কুল ছাত্রীটির ডাক্তারি পরীক্ষা ও আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী শেষ হয়েছে গতকাল মঙ্হলবার।

তবে ধর্ষনের পর মামলা ও ডাক্তারি পরীক্ষায় শহরে আসা যাওয়ায় সময় দিতে গিয়ে স্কুল ছাত্রীটি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। ফলে ঘোর অমানিশা নেমে এসেছে দরিদ্র পরিবারের মেয়েটির জীবনে।

জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের তিন সৌদিয়া পূর্ব পাহাড় এলাকায় প্রবাস ফেরত লম্পট আবদুল মান্নানের লালসার শিকার হন বেতাগী আবুল বশর চৌধুরী স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীটি। সে এবারে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ঘটনারদিন মেয়েটি জেএসসি পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি এসে পাশের পাহাড়ে গৃহপালিত গরুটি আনতে গেলে নির্জন এলাকায় পেয়ে লম্পট আব্দুল মান্নান মুখ চেপে ধরে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

ধর্ষনের ঘটনায় ৭ নভেম্বর রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা করেন স্কুল ছাত্রীটির বড় বোন রাশেদা আকতার। থানার এসআই রবিউল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছেন। লম্পট আব্দুল মান্নান বেতাগী ইউনিয়নের চেংখালী এলাকার আব্দুল মোনাফের পুত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের ওমান প্রবাসী। সম্প্রতি দেশে আসেন সে এবং আগামী ১৪ নভেম্বর ওমানে ফেরার জন্য বিমানের টিকেট কনফার্ম করা ছিল। ঘটনার পর থেকে সে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানায়।

রাঙ্গুনিয়া থানা সুত্র জানায়, গতকাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধর্ষিত স্কুল ছাত্রীটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। বিকেলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে ভিকটিম ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জবানবন্দি প্রদান করেন। এরপর আদালত ধর্ষিতা মেয়েটিকে মামলার বাদী ও তার বোন রাশেদা আকতারের জিম্মায় দেন।

বেতাগী ইউপি সদস্য মো. জানে আলম স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে ধর্ষনের ঘটনা টাকার বিনিময়ে দফারফা করার চেষ্টার সাথে তাকে জড়িত করার ব্যাপারে বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তিনদিন পরও তাকে কেউ জানাননি। জানার পর ধর্ষিত মেয়েটিকে থানায় পাঠিয়ে মামলা করতে সহায়তা করেন সে। প্রকৃত দোষীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানান তিনি।

মামলার বাদী রাশেদা আকতার বলেন, ধর্ষক ছেলের বাবা আবদুল মোনাফ ও বোন জামাই নাছেরসহ এলাকার প্রভাবশালী একটি চক্র মামলা করায় তাদেরকে নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছেন এবং তারা ধর্ষক আবদুল মান্নানকে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার ছোটবোন গতকাল অনুষ্ঠিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলে তিনি জানান।

এব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ধর্ষক আবদুল মান্নান যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন সে জন্য পুলিশ তাকে ধরতে তৎপর রয়েছে।

সিটিজিসান.কম/শিশির

Print This Post Print This Post