রাঙ্গুনিয়ায় চাঞ্চল্যকর জিল্লু হত্যা : সন্ত্রাসীদের হুমকিতে দেশছাড়া বাদি

আপডেট: ৮ নভেম্বর ২০১৬ ৩:৪১ অপরাহ্ন

প্রধান আসামী মো. খোকন
প্রধান আসামী মো. খোকন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার রানীর হাট বাজারে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হওয়া মাইজ ভান্ডার দরবার শরীফের ভক্ত জিল্লু রহমান ভান্ডারী হত্যার বিচার এখনো শেষ হয়নি। খুনের ঘটনার দীর্ঘ ২২ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মামলায় অভিযুক্ত অধিকাংশ আসামী।

পুলিশের অসহযোগিতার কারণে ১৩ জন আসামীর মধ্যে মাত্র দুজন আসামী বর্তমানে গ্রেফতার হয়েছে বলে অভিযোগে জানান মামলার বাদী। মামলার প্রধান আসামী রাঙ্গুনিয়ার ইসলামপুর ইউনিয়নের সায়ের মোহাম্মদ পাড়ার মৃত আবুল কাশেমের পুত্র মো. খোকনকে সোমবার (৭ নভেম্বর) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটির ধার্য্য তারিখে সিআইডি কর্তৃক প্রদত্ত চার্জশীট গ্রহণ পূর্বক মামলাটির এক নম্বর আসামী মো. খোকনকে জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়।

খোকন সহযোগীসহ ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি রাতে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের রাণীরহাট বাজার সংলগ্ন রাজানগর আরএবিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জিল্লু ভান্ডারীকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করে হত্যা করেন বলে অভিযোগে জানা যায়। জিল্লর রহমান ভান্ডারী উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খামারি পাড়া গ্রামের নুরুল আলম সওদাগর প্রকাশ লেদুর পুত্র।

এসময় তার ভাই আজিম উদ্দিন বাদী হয়ে মো. খোকন (৪৫) সহ ১৩জনকে আসামী করে রাঙ্গুনিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে প্রধান আসামী এজাহারভুক্ত মো. খোকন ও মো. ইসমাইলসহ কয়েকজনকে বাদ দিয়ে মামলার চার্জশীট প্রদান করেন আদালতে। এরপর মামলার বাদী আদালতে চার্জশীটের বিরুদ্ধে নারাজী দিলে মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডি।

সিআইডি চট্টগ্রামের ইন্সপেক্টর মো.আবদুল হামিদ মামলাটি পূনরায় তদন্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন গত মাসে।

পুলিশ ও আদালত সুত্র জানায় রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত মো. খোকনের বিরুদ্ধে আদালতে কমপক্ষে নয়টি মামলা রয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার ১৯৯১ সালের চাঞ্চল্যকর ছোবহান হত্যা মামলার যাবৎজীবন সাজা প্রাপ্ত আসামী খোকন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আদালতে রাঙ্গুনিয়ার ১৯৮৯ সালের মেহেরুজ্জামান হত্যা মামলা, একই সালের গফুর হত্যা মামলা, ১৯৯১ সালের ইসমাঈল হত্যা মামলা, ২০০১ সালের ননাইয়া হত্যা মামলা, ২০০৩ সালের দ্রুত বিচার আইনের একটি মামলা, ২০১৪ সালের মাহাবুব হত্যা মামলা, ও ২০১৫ সালের জিল্লুর রহমান ভান্ডারী হত্যা মামলাসহ ডজন খানেক মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে।

এদিকে সন্ত্রাসীদের ক্ষমতার বলে ভাই হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে প্রবাস যাপন করছেন জিল্লুর হত্যা মামলার বাদি আজিম উদ্দীন। শুধু তাই নয় মামলা প্রত্যাহার করে নিতে আসামীরা নিহতের পরিবারকে প্রতিনিয়ত অপহরণ ও প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নিহতের পরিবার। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোন সুরাহা না হওয়ায় একই আসামীদের বিরুদ্ধে নগরীর চকবাজার থানায় করা হয় সাধারণ ডায়েরী।

মামলার বাদী অভিযোগ করে বলেন, রাঙ্গুনিয়া থানা গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর হত্যা মামলার চার্জশীট দেয়ার সময় মামলার প্রধান দুই আসামী শহিদুল ইসলাম ওরপে লেঙ্গা খোকন এবং ইসমাইল ওরপে পিস্তল ইসমাইল এবং আজিম ও সাইফুলের নাম বাদ দিয়ে বিএনপির দুজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার বাদি আদালতে নারাজী দিলে আদালত মামলার তদন্তভার গ্রহণ করার জন্য সি আইডিকে নির্দেশ দেয়। এরপর থেকেই শুরু হয় নিহত জিল্লুর পরিবারের উপর নির্যাতন ও নানান মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি।

পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন ও হয়রানি মূলক একটি মিথ্যা মামলাও করা হয়। মিথ্যা মামলার ভয়ে বাদী আজিম উদ্দীন বর্তমানে দেশ ছেড়ে কাতারে অবস্থান করছে। ভাই হত্যার সঠিক বিচার চাইতে দেশে ফিরতে চাইলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে তিনি দেশে আসতে পারছেনা।

নিহত জিল্লু ভান্ডারীর অপর ভাই মো.ইকবাল সৌদি আরব থেকে মুঠোফোনে জানান, প্রায় সময় মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে আসামীরা। দেশে থাকা বাদীর ছোট ভাই অবস্থানরত বাদির ছোট ভাই বাবলুকে বিভিন্ন হয়রাণি মূলক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে আসছে।

সর্বশেষ গত ২৬ অক্টোবর বাদি আজিম উদ্দীনের ছোট ভাই আদালতে বিচারাধীন মামলার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আদালতে দেখিয়ে ফেরার পথে সন্ধ্যায় চকবাজার অলি খাঁ মসজিদের সামনে পথরোধ করে শহিদুল ইসলাম ওরপে লেঙ্গা খোকন ও জসীম। তারা বাবলুকে হুমকি দিয়ে বলে মামলা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পরিণাম ভাল হবে না। তার ভাইয়ের মতো তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলার হুমকি প্রদান করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে উকিলের সহায়তা নিয়ে চকবাজার থানায় হত্যার হুমকির অভিযোগে সাধারণ ডায়রি করেন ইকবালের ছোট ভাই জিয়া উদ্দিন বাবলু।

ইকবাল ও তার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছে জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে গেলে সন্ত্রাসীরা আমার ভাইয়ের মত আমাকেও হত্যা করে হবে। তিনি বলেন, আমাদের বড় অপরাধ আমরা ভাই হত্যার বিচার চেয়েছি। কারাগারে দুই আসামী ছাড়া বাকিরা হলেন ইসমাইল ওরফে পিস্তল ইসমাইল, মো. সাইফুল, জসিম, নাজিম, আজিম, কামাল, টুকাই নাছের, তোতাইয়া, সিএনজি সুমন, রন্জু ও জাহাঙ্গীর।

সিটিজিসান.কম/রবি

Print This Post Print This Post