চট্টগ্রাম :: মনোয়ারা বেগম নামে এক ক্যানসার রোগীকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তির কয়েক ঘন্টার মধ্যে গত সোমবার গভীর রাতে রোগী মারা গেলে রোগীর অভিভাবকরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগে পুরো হাসপাতালে আতংক তৈরি করে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের সহযোগীতায় আতংকিত দ্বায়িতরত ডাক্তাররা ঐ সময় নতুন রোগীদের ইর্মাজেন্সি থেকেই ফেরত দিতে থাকে। পরে সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অফিস কক্ষে রীতিমত জিম্মী করে হাসপাতালে ভাংচুর এবং সুনাম ক্ষুন্নের ভয় দেখিয়ে চাপের মুখে তিন লাখ টাকা আদায় করে মো.বেলাল ও তার সহযোগীরা।
রাত ১০টা ৩০মিনিটে মো.বেলাল সহ আরো ক’জন মিলে মনোয়ারা বেগম নামে একজন ক্যানসার রোগীকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে দ্বায়িতরত ডাক্তার ডা. জয় তাৎক্ষনিক ব্যবস্থাপত্র দিয়ে মনোয়ারা বেগমকে আইসিইউতে প্রেরন করে। আইসিউতে কর্মরত ডাক্তার প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র দিয়ে কিছু সময় পরেই ৯০৯ নাম্বার কেবিনে পাঠিয়ে দেয়।
এর পর গভীর রাতে আনুমানিক রাত ১২টা ২০ মিনিটে হঠাৎ রুগীর অবস্থার অবনতি হয় এবং আইসিউতে নেওয়ার আগেই মনোয়ারা বেগম মারা যান। রোগীর এটেডেন্টরা লাশ বুঝে নেওয়ার পর হঠাৎ হাসপাতালের ট্রিটমেন্ট সিটের একটি ব্যবস্থাপত্র এনে ডাক্তার জয়কে ধমকাতে থাকেন এই প্রেসক্রিপশন আপনি দিসেন? এগুলো আপনার হাতের লেখা? ডাক্তার জয় কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা অভিযোগ করতে থাকে প্রেসক্রিপশন পাল্টে ফেলার।
এই সময় স্থানীয় ১৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী পরিচয় দিয়ে হারুন হাসপাতাল ভাংচুরের নির্দেশ দিন ও ডাক্তার জয়কে বাধ্য করেন ওই প্রেসক্রিপশন তার নয় এমন সীকারোক্তি দেওয়ার। সবাই তাকে মামা বলে সম্ভোধন করছিলো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা.জয় বলেন, ‘তারা আমাকে চাপাচাপি করে ও ধমক দেন আপনিও বিপদে পড়বেন বলে। সাধারণত ট্রিটমেন্ট সিটে রোগীর নাম, বেড নম্বর সহ বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ্য থাকে কিন্তু ওই প্রেসক্রিপশনে কিছুই ছিল না। স্বাক্ষরও আমার নয়। তারপরও আমাকে সাইন করতে বাধ্য করা হয়’।
ঘটনার আকস্মিকতায় কর্তব্যরত ডাক্তাররা দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে খবর দিলে হাসপাতালের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ সেলিম চকবাজার থানাকে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে এসআই পল্টু বলেন, ‘আমি রোগীর স্বজনদের বলেছি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে, তাদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে’। এরপর আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব’।
তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আসলে আমরা আসলে নিরুপায় হয়ে পড়ি। কেননা সাধারনত রোগীর স্বজনরা ওই মুহূর্তে কোনো রকম যাচাই-বাচাই ছাড়াই এক তরফা অভিযোগ করতে থাকেন এবং ভাঙ্গচুর করে।
এতে হাসপাতালের সুনাম নষ্ট হয়। আর চট্টগ্রামে আমরাই একমাত্র ওপেন হার্ট সার্জারী করি। মেট্রোপলিটন হাসপাতালের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা আছে। আমরা কখনই চাই এধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের সুনাম নষ্ট হোক। তাই অনেকে এর ফায়দা লুটের চেষ্টা করে’। এ ঘটনায় ৩ লাখ টাকা চাঁদা আদায় প্রশ্নে এসব কথা বলেন ম্যানেজার সেলিম।
হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে টাকা আদায়ের পূর্নচিত্র রয়েছে বলে জানান নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা নেয়ার বলেন এক কর্মকর্তা।
এ প্রতিবেদক কথা বলতে মোহাম্মদ বেলালের ০১৮২১-৭১ ৪৬ ৬৮ নম্বরে বারবার ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে আরো চাঁদা দাবী করা হচ্ছে।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post

