যাত্রী কল্যাণ সমিতির মোজাম্মেলের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০২১ ১০:০১ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ১৪ নভেম্বর, ২০২১ রোববার ১০:০০ এএম

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। দীর্ঘ একযুগ ধরে যাত্রী অধিকার ও পরিবহন খাতের নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে গণমাধ্যমে সরব ছিলেন তিনি। তবে যাত্রী অধিকার আদায়ের আড়ালে ওই খাত সুবিধা আদায়ের অভিযোগও কম না তার বিরুদ্ধে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব পদ-পদবি ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিবহন চালক-হেলপারদের কাছে চাঁদা আদায় ও সরকারি বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করতেন অর্থ। দীর্ঘদিন এ অবৈধ পথে আয় করে তার নামে-বেনামে গড়েছেন তিনি অঢেল সম্পদ। সম্প্রতি এসব অভিযোগের প্রক্ষিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

চলতি বছরের ৬ জুন মোজাম্মেল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্তপূর্বক ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক উত্তম কুমার মন্ডল। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে জমা হওয়া অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী হলেও দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী বসবাস করে আসছেন নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়ায়। ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় মোজাম্মেল হক চৌধুরী ওই মাসে ১০ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন তিনি। গ্রেপ্তারের পরপর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে তার স্ত্রী রিজু আক্তার চৌধুরী দাবি করেছিলেন, তার স্বামী একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে অল্প টাকা বেতনে কাজ করেন। ওই টাকা দিয়ে কোনো মতে চলত তাদের সংসার।

দুদক দেওয়া অভিযোগের দেখা যায়, চট্টগ্রামের চন্দনাইশে দেড় কোটি টাকায় ৩৪৫ শতক জমি কিনেছেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী। চার দফায় চারটি দলিলের মাধ্যমে চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর মৌজায় বিভিন্ন দাগে মোট ৩৪৫ শতক (সাড়ে ৮ কানির বেশি) জমি কিনেছেন। রেজিস্ট্রি দলিলে ওই জমির মোট মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে এক কোটি ৪৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে মোজাম্মেল হক চৌধুরীর মালিকানায় রয়েছে সিএনজি অটোরিকশার শো-রুম। এটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন তার ছোট ভাই মনির চৌধুরী। প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্যও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।

দুদক অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, চট্টগ্রামে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও নম্বর প্লেট ছাড়া বেশকিছু সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে মোজাম্মেল হক চৌধুরীর নামে। ২০১৮ সালের পর থেকে চট্টগ্রামে এসব অনুমোদনবিহীন অটোরিকশা থেকে মাসিক আয় করতেন কয়েক লাখ টাকা। এসব অর্থ দিয়ে নামে-বেনামে, গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদের। তার বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ থেকে এমন তথ্যও মেলেছে।

সম্প্রতি আপনার (মোজাম্মেল হক চৌধুরী) বিরুদ্ধে দুদক সম্পদের তদন্ত শুরু করেছেন। বিষয়টি জানতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল করা তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সিএস

Print This Post Print This Post