ফুটফুটে শিশু খেলতে বেরিয়ে নিখোঁজ, পরদিন লাশ মিলল ইপিজেডের বেড়িবাঁধে

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ বৃহস্পতিবার ০৭:৫০ পিএম

চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার আকমল আলি বেড়িবাঁধ এলাকায় নিখোঁজের একদিন পর রাজকুমার (১০) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা এখনও জানা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবিরুল ইসলাম।

এর আগে বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা করা হয়নি বলে জানান ওসি।

জানা গেছে, রাজকুমার স্থানীয় ইসমাইল সুকানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। সে তার বাবা-মায়ের সাথে মাদ্রাজি শাহ্ রোডের ডাক্তার মজুমদার বিল্ডিংয়ের নিচতলায় থাকতো।

রাজকুমারের মা রুপা দাশ বলেন, ‘গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমার ছেলে বাসার বাইরে খেলতে যায়। এরপর আর ঘরে ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাচ্ছিলাম না। এরপর শুনি আমার ছেলের লাশ পাওয়া গেছে সাগরপাড়ের বেড়িবাঁধে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ফুটফুটে ছেলেটাকে এভাবে কে নিয়ে মেরে ফেলল? কিসের শত্রুতা ছিল নিষ্পাপ এই বাচ্চার সাথে? আমি এর বিচার চাই।’

ওই শিশুর লাশ দেখতে পাওয়া শাহআলম নামে স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘আমি রাতে মাছ আনতে বেড়িবাঁধে যাই। এসময় পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখি। এরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিই। পরে ইপিজেড থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’

রাজকুমারের বাবা পলাশ দাশ বলেন, ‘আমার সাথে ব্যক্তিগতভাবে কারও শত্রুতা নেই। কি কারণে এভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করা হল রাষ্ট্রের কাছে জানতে চাই। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।’

ওসি কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজকুমার নামে এক শিশু গত পরশুদিন নিখোঁজ হয়। সেদিন তার মা থানায় এসে একটি নিখোঁজের ডায়েরি করেন। গতকাল রাতে সেই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছি আমরা। লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। রিপোর্ট পেলে জানা যাবে।’

নিহতের শরীরে কোনপ্রকার আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে কিনা?— এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘আমার ধারণা পরশুদিন যেকোনো সময়ে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। যার ফলে লাশের গায়ে পঁচন ধরেছে। তাই আমাদের ময়নাতদন্ত করতে হয়েছে।’

‘এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা করা হয়নি। তাই আমরা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছি।’— যোগ করেন ওসি।

এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তার মরদেহের সৎকার সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান নিহতের বাবা পলাশ দাশ।

আরএইচআর/সিএস

Print This Post