‘কব্জির জোর’— ইপিজেডে দোকান দখল নিতে গভীর রাতে লুটপাট চালালো খোদ জমিদার

আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৬:০৯ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ শনিবার ০৬:০০ পিএম

চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকার অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা নেভী হাসপাতাল গেইট। সম্প্রতি এই এলাকায় ‘শুভেচ্ছা টি-স্টল’ নামে একটি খাবার দোকানকে উচ্ছেদ করতে গভীর রাতে লুটপাট চালিয়েছে খোদ দোকানের জমিদারই। শুধু তাই নয়, মোবাইলে ফোন করে ভুক্তভোগী দোকানিকে দোকানের আশেপাশে না ঘেঁষার হুমকিও দেয় সে। লুটপাটের অভিযোগে চট্টগ্রামের একটি আদালতে জমিদারসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছেন ওই ভুক্তভোগী দোকানি।

বুধবার (১ সেপ্টম্বর) দুপুরে ইপিজেড থানার নেভী হাসপাতাল গেইট এলাকার ‘শুভেচ্ছা টি-ষ্টল’ নামীয় ওই দোকানের স্বত্বাধিকারী জুয়েল দাশ বাদি হয়ে চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন। ওইদিন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ইপিজেড থানাকে তদন্ত করার নির্দেশ দেন।

মামলার বিষয়টি সিটিজিসানকে নিশ্চিত করেছেন ভূক্তভোগী জুয়েল দাশের আইনজীবী বিশ্বজিৎ ধর।

অভিযুক্তরা হলেন— চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার নেভী হাসপাতাল গেইট এলাকার বোম্বাইওয়ালার বাড়ীর মৃত মকবুল আহমদের পুত্র আজমাত জামাল (৪০), একই এলাকার বাসিন্দা বাসমতি রেস্তোরার ব্যবসায়িক অংশীদার মো. সবুজ, তার ভাই নজরুল এবং মো. সবুজের বন্ধু মো. রিপন।

মামলা সুত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের ৯ এপ্রিল ইপিজেড থানার নেভী হাসপাতাল বোম্বাইওয়ালা বাড়ীর ৬ নম্বর ‘শুভেচ্ছা টি ষ্টল’ নামীয় খাবারের দোকানটি পরিচালনা করে আসছিল মামলার বাদির বাবা মিলন কান্তি দাশ। দোকানটি নেওয়ার আগে-পরে বিভিন্ন ধাপে অগ্রিম হিসেবে জমিদার আজমাত জামালের নিকট জমা রাখা হয়েছে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা। অগ্রিম টাকা দেয়ার রয়েছে প্রমাণপত্রও।

২০১৩ সালের ১ এপ্রিল দোকানের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে চুক্তি না করে মৌখিকভাবে নতুন করে দোকানটি পরিচালনা করতে সুযোগ দেয় জমিদার। সেখানে ভাড়া হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা। ওই সময় থেকে দোকানের ভাড়া জমা করা হতো বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক বন্দরটিলা শাখার জমিদার আজমাত জামালের ২৪০১১৮৫৬৫৭০০১ হিসাব নম্বরে। দোকান ভাড়ার টাকা ছাড়া নতুন করে অগ্রিম জামানত দেয় আরও ৮০ হাজার টাকাও। এ টাকাটাও দেওয়া হয়েছে একই হিসাব নম্বরে।

সবশেষ ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট রাত ১১ টার পর দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যায় ভূক্তভোগী দোকানি। পরেরদিন সকালে দোকান খুলতে আসলে দেখতে পান ক্যাশবক্সে থাকা নগদ ৫৬ হাজার টাকা সহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট হয়েছে।

ওই এলাকায় রাতের বেলায় কর্মরত নিরাপত্ত প্রহরীর বরাত দিয়ে ভূক্তভোগী জুয়েল দাশ বলেন, ‘২৫ আগস্ট রাত ১১ টার পর যথারীতি দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যাই। পরের দিন সকালে দোকান খুলতে আসলে দেখতে পাই দোকানের তিনটি ফ্রিজ, একটি ৩২ ইঞ্চি এলসিডি টিভি, একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন, দোকানের সমস্ত সিসি ক্যামেরা, একটি বড় হোম থিয়েটার, বিভিন্ন ব্যান্ডের ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার সিগারেট, কাজী এন্ড সন্স ব্যান্ডের দুই কার্টুন চা পাতা, তের হাজার টাকার কনডেন্স মিল্ক, তিনটি গ্যাস সিলিন্ডার, একটি আইপিএস সহ নগদ ৫৬ হাজার নিয়ে লুটপাট করে নিয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দোকানটি জোর করে দখল করতে এমন লুটপাট চালিয়েছে জমিদার ও তার সহযোগিরা। চলতি বছরের শুরুর দিকে ঋণ করে দোকানটিতে মালামাল কেনা হয়েছে। আয়ের একমাত্র সম্বল ছিল দোকানটি। লুটপাট করার পর দোকানটিতে দুইটি বড়বড় তালা মেরে দিয়েছে জমিদার। ঘটনার পর দোকানটি খোলার চেষ্টা করা হলে সেখানে লুটপাটের পর দোকানে তালা মেরে দেয় জমিদার। শুধু তাই নয়, ঘটনার থেকে মোবাইলেও হুমকি দেয় যেন দোকানটির ধারে-কাছেও না আসি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে দোকানটির জমিদার আজমাত জামালের মুঠোফোনে একাধিবার কল করা হলেও মুঠোফোনের সংযোগ পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে বিনা রশিদের দোকান ভাড়ার টাকা গ্রহণের অভিযোগে এনে ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী জজ তৃতীয় আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় জমিদার আজমাত জামালকে অভিযুক্ত করা হয়। আদালতে মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।

আরএইচআর/এমএ/সিএস

Print This Post Print This Post