উদ্ধার এক জেলের মরদেহ

উত্তাল বঙ্গোপসাগর— ট্রলার ডুবে নিখোঁজ ২০ জেলে, ডুবেছে তেলবাহী ট্যাঙ্কারও

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২৭ জুলাই, ২০২১ মঙ্গলবার ০৭:৫০ পিএম

উত্তাল বঙ্গোপসাগর৷ বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকায় আছড়ে পড়ছে বড় বড় ঢেউ। উত্তাল সমুদ্রে ডুবেছে অন্তত ৭টি মাছ ধরার ট্রলার। নিখোঁজ রয়েছেন ২০ জেলে। উদ্ধার হয়েছে এক জেলের মরদেহ।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকে বিভিন্ন সময়ে এসব ট্রলার ডুবে যায়। বর্তমানে ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে কোস্টগার্ড। নিখোঁজ হওয়া জেলেদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আজ সকাল থেকে বিভিন্ন সময়ে উপজেলার চাম্বল ইউনিয়ন এলাকায় ছয়টি ট্রলার ও শেখেরখিল ইউনিয়ন এলাকায় একটি ট্রলার ডুবে যায়। এতে প্রায় ২০ জেলে নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়। দুপুরে চাম্বল ইউনিয়ন এলাকায় একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে। বিকেল থেকে তারা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।’

চট্টগ্রাম কোস্টগার্ডের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লে. কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিকেল ৪টার দিকে বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকায় আমরা ট্রলারডুবির খবর পেয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জাহাজ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

এদিকে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে বঙ্গোপসাগরের পতেঙ্গা সৈকতের অদূরে আনন্দ বাজার এলাকায় উত্তাল সাগরে ‘এমটি সুফলা’ নামে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ডুবে গেছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় লঘুচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুর তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে ও গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়োহাওয়া বয়ে যেতে পারে।— এমনটাই জানানো হয় আজ বেলা ১১টায় আবহাওয়ার এক সতর্কবার্তায়।

সতর্কবার্তায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

ভারি বর্ষণের সতর্কবাণীতে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারি (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টি হতে পারে।

অতিভারি বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্কবাণীতে জানানো হয়।

সিএস

Print This Post