নিরীহ লোককে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা, এবার সেই অস্ত্রের জালে ফেঁসে যাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান!

বাঁশখালী প্রতিনিধি | আপডেট : ১০ জুলাই, ২০২১ রোববার ১০:৪০ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর শেখেরখীল ইউনিয়নের লালজীবন এলাকার নুরুল কাদের নামের ব্যক্তিকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে যাচ্ছেন শেখেরখীল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইয়াসিন তালুকদার।

জানা যায়, নুরুল কাদেরকে পুঁইছড়ি ইউনিয়নের বহদ্দারহাট রাস্তার মাথা থেকে মারধর করে নাপোড়া-শেখেরখীল উচ্চ বিদ্যালয়স্থ চেয়ারম্যানের অস্থায়ী কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নুরুল কাদেরকে নিয়ে গিয়ে তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি তুলে দেন চেয়ারম্যান ইয়াসিন তালুকদার ও তার সঙ্গীয় লোকজন।

এ ঘটনায় নুরুল কাদের বাদী হয়ে শেখেরখীলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াসিন তালুকদার সহ আটজনকে আসামী করে বাঁশখালী থানায় শনিবার (১০ জুলাই) বিকেলে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পরদিন থেকে নুরুল কাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত বুধবার অস্ত্র ও গুলি দিয়ে নুরুল কাদেরকে ডাকাত সাজানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে। অস্ত্র ও গুলি দিয়ে তাকে শেখেরখীলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াসিন তালুকদারের কার্যালয়ে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে নুরুল কাদেরকে অস্ত্র ও গুলিগুলো সহ থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে ঘটনার দিন রাত আটটার দিকে তদন্তে নামেন আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হুমায়ুন কবীর ও বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল কবীর। তারা ঘটনার সত্যতা না পেয়ে নুরুল কাদেরকে সেদিন রাতে ছেড়ে দেন পুলিশ।

এদিকে এ ঘটনার পর থেকে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুরুল কাদেরকে চেয়ারম্যান বাহিনীর মারধরের বেশ কিছু ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায় নুরুল কাদেরকে শেখেরখীলে চেয়ারম্যান ইয়াসিন তালুকদারের কার্যালয়ে তার ভাতিজা ইকবাল হোসেন সহ লোকজন মারধর করছে। এ সময় হাতে অস্ত্র ও কোমরে গুলি গুঁজে দিয়ে তার ছবি তোলা হচ্ছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পুঁইছড়ি নয়াপাড়া নতুন মসজিদের ইমাম আব্দুর রহিম বলেন, ঘটনার শিকার নুরুল কাদেরের বাড়ি শেখেরখীলে হলেও চেয়ারম্যান ইয়াসিনের অত্যাচারে পুঁইছড়ি ইউনিয়নে এসে আশ্রয় নেয়। ঘটনার দিন নুরুল কাদের পুঁইছড়ির নয়া মসজিদ এলাকায় একটি চায়ের দোকানে শুয়ে ছিলেন। শেখেরখীলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াসিন তালুকদার ও তার লোকজন একটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে নয়া মসজিদ এলাকায় আসেন। চেয়ারম্যান ইয়াসিন তালুকদার সিএনজি অটোরিকশা থেকে না নামলেও তার লোকজন দোকানটিতে ঢুকে নুরুল কাদেরকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে অটোরিকশায় তুলে শেখেরখীলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াসিন তালুকদারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। চেয়ারম্যান বলে সম্মান দেখিয়ে আমরা কিছু বলিনি। না হয় তাকে নিয়ে যেতে দিতাম না।

তিনি আরও বলেন, নুরুল কাদের গরীব লোক। সে তার ছেলের ফার্নিচারের দোকানে কাজ করে। নুরুল কাদের সালিশ বিচারে চেয়ারম্যানকে টাকা জমা দিয়েছিল। জমা দেওয়া টাকাগুলো ফেরত চাওয়ায় অসহায় একজন লোককে এভাবে মেরে তুলে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো। এটা কেমন কাজ!

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল কবীর অসুস্থ থাকায় তার সাথে কথা বলা যায়নি।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম বলেন, অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনায় নুরুল কাদের বাদী হয়ে শেখেরখীল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াসিন তালুকদারসহ আটজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। শেখেরখীল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াসিন তালুকদারকে কেন আসামী করা হলো এমন প্রশ্নে- এই কর্মকর্তা বলেন, নুরুল কাদেরকে মারধর করে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অস্ত্র ও গুলি দেওয়ার ঘটনার কারণে চেয়ারম্যানকে আসামী করা হয়েছে। এই অস্ত্র ও গুলি কোত্থেকে আসতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

সিটিজিসান ডটকম/সিএস

Print This Post