ঘুমের ভেতরে অফিস, ‘টাকা খেয়ে’ মামলার প্রতিবেদন জমা দেন এই কর্মকর্তা!

আপডেট: ৫ জুলাই ২০২১ ১০:০০ পূর্বাহ্ন

বাঁশখালী প্রতিনিধি | আপডেট : ৫ জুলাই, ২০২১ সোমবার ১০:০০ এএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মমং মগ। সরকারি দায়িত্ব পালন না করে সারাদিন তিনি পার করছেন চেয়ারে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে। সকাল বেলা অফিসে আসলেও শুধু ব্যক্তিগত কাজ ছাড়া অফিসের কোনো কাজে হাত পড়ে না তার। প্রতিদিন অফিসের লোকজনের সঙ্গে আড্ডা ও আর অফিসের চেয়ারের ঘুমিয়ে শেষ করেন তার দায়িত্ব পালন।

এছাড়া, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে একটি জায়গার বিরোধ নিয়ে দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত সরেজমিন না গিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করারও অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি ভূমি অফিসের একটি মামলা সংক্রান্ত সঠিক তদন্ত না করে প্রতিবেদন দাখিল করেন সরল ইউনিয়নের জালিয়াঘাটার ভাদালিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কানুনগোখীল এলাকার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ভুক্তভোগীরা দুই ভাই। আবুল কাশেম ও মোহাম্মদ হাসান। জায়গাটির ক্রয় সূত্রে বিএস ৯৭৯ নম্বর খতিয়ানের ২৯১২ নম্বর বিএস দাগের দুইটি সাব-কবলা মূলে ৩ গণ্ডা ৩ কড়া জমির মালিক হন তারা দুই ভাই। বর্তমানে দুই ভাই জায়গাটির ভোগদখলে রয়েছেন। সম্প্রতি ভুক্তভোগী আবুল কাশেমের অংশে দোকান নির্মাণ করতে গেলে তার ভাই হাসানের পালকপুত্র মাহমুদুল ইসলাম বাধা দেন সেখানে। একই সঙ্গে তার জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা দায়েরও করেন মাহমুদুল ইসলাম।

মামলার প্রেক্ষিতে চলতি বছরের গত ১৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (দক্ষিণ) বিষয়টি তদন্তের জন্য বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন। এরপর বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মমং মগকে। সেখানে তিনি তদন্ত না করে যে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন, সেটি গত ২২ জুন আদালতে দাখিল করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী।

ভুক্তভোগী আবুল কাশেম বলেন, বাঁশখালী ভুমি অফিস থেকে বিবাদী হিসেবে আমাদের কাছে কোনো ধরনের নোটিশ পাঠানো হয়নি। এমনকি ভূমি অফিস থেকে সরেজমিনে কেউ তদন্ত করতেও আসেনি। যদিও কিছুদিন আগে থেকে মামলার বাদী মাহমুদুল ইসলাম এলাকার কয়েকজনকে বলে বেড়ান তার পক্ষে ভূমি অফিসের কানুনগো প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। পরে আমরা খবর নিয়ে জানতে পারি, টাকার জোরে এ অনৈতিক কাজটি করেছেন কানুনগো।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জলদি এলাকায় ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, কানুনগো মমং মগ অফিসের চেয়ারের আরামের সঙ্গে ঘুমাচ্ছেন। ঘুম থেকে জাগিয়ে আবুল কাশেমের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা রিপোর্ট পাঠিয়ে দিছি। লকডাউন চলাকালে অফিসের নিয়ম অনুযায়ী রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে কানুনগো মমং মগ বলেন, মামলার বিবাদীরা যদি প্রতিবেদনটির বিরুদ্ধে নারাজি দেন, তাহলে সেটা পুনরায় অফিসে চলে আসবে। তখন সেটা ঠিক করে দেয়া হবে।

জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এ ধরনের অনিয়মের বিষয়ে ভুক্তভোগীদের কেউ লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যে মামলাটির তদন্ত রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে, সেটা পুনরায় তদন্তের জন্য পাঠালে ঠিক করে দেয়া হবে।’

সিটিজিসান ডটকম/সিএস

Print This Post Print This Post