জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড

গায়ের জোরে অন্যের জমি দখল, পাহাড়ের ছড়ায় বাঁধ নির্মাণে চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসি

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি | আপডেট : ৪ জুলাই, ২০২১ রোববার ০৩:০০ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের সুলতানা মন্দির এলাকায় বনবিভাগ ও অন্যের মালিকানা জমি দখল করে পাহাড়ে ভেতরে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে লেক সৃষ্টি করেছে জিপিএইচ ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ বাঁধ নির্মাণের কারণে পানির প্রবাহে মারাত্মক বাঁধার সৃষ্টি হয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে সেখানকার পরিবেশ। একই সঙ্গে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে স্থানীয়দের ফসলী জমি। সম্প্রতি এ লেকে অবৈধ বাঁধ মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে দুই শ্রমিক নিহতের ঘটনাও ঘটেছে।

জানা যায়, কুমিরা ইউনিয়নের সুলতানা মন্দির এলাকায় ওই প্রতিষ্ঠানের কারখানার নিত্য প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণের জন্য পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বাঁধ নিমার্ণ করেছে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড। যার ফলে পাহাড় থেক নেমে আসা পানি এ বাঁধে আটকা পড়ে সেখানকার ভূমিতে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অবৈধ বাঁধের প্রভাবে বিএস ৮৫২ দাগের ৮৮ শতক জায়গা পানির মধ্যে তলিয়ে যাওয়ায় সেখানে ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না । জমিতে জলবদ্ধতার কারণে কৃষি কাজের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ায় আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক। বেআইনীভাবে নিমির্ত বাঁধ দ্বারা আশে-পাশের ভূমি প্লাবিত হওয়ায় মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে বলে রয়েছে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের ৬ জুন এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি।

সুত্র বলছে, ২০২০ সালের ৫ আগষ্ট বেলা তিনটার দিকে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের কারখানার পূর্ব পাশে পাহাড়ে লেক তৈরি করার কাজ করার সময় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক মোটরের সংস্পর্শে আসলে ঘটনাস্থলেই দুই শ্রমিক নিহত হয়। তারা হলেন, কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানার পূর্ব উজানটিয়া ইউনিয়নে নুরুচ্ছাপা প্রকাশ নুরুর পুত্র মমতাজ উদ্দিন (২৮) এবং মৃত সিরাজ মিয়ার পুত্র আব্দুর রশিদ মাঝি (২৭)।

প্রায় দুই বছর আগে ওই এলাকায় এ বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা সীতাকুণ্ডের সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ মাফুজুল হক। জরিমানা করার পরও পরবর্তীতে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করা যায়নি। তবে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়। অদ্যাবধি ওই কমিটি এ অবৈধ বাঁধ বন্ধের ব্যাপারে কার্যকর তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

ছড়ায় বাঁধের জটিলতা বিষয়ে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আল আমিন বলেন, ‘পানির স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ করার ফলে ভূগর্ভে পানি প্রবেশ করতে পারেনা। ফলে ওই অঞ্চলে ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যেতে পারে। জীব বৈচিত্র ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।’

জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জিপিএইচ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি তার জায়গা দখল করেছে বলে একটি অভিযোগ করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। তদন্ত করে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের মিডিয়া শাখার উপদেষ্টা অভিক ওসমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি জেনে আপনাকে জানাতে পারব।’

সিটিজিসান ডটকম/সিএস

Print This Post