নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২৬ মে, ২০২১ বুধবার ০৪:০০ পিএম
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার উপকূলীয় এলাকা। দমকা হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ঘরবাড়িসহ দোকানপাটও। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই এখন উপকূলবাসীর। অর্ধশত পরিবার এখন আশ্রয়হীন— এমন চিত্র দেখা গেছে পতেঙ্গার উপকূল ঘুরে।
বুধবার (২৬ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে যাওয়া ঘরবাড়ি পুনরায় মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা। জোয়ারের পানি দুপুরের দিকে কমে গেলেও সকালে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পানিতে প্লাবিত হয় বেরিবাঁধ এলাকা।
হু হু করে প্রচণ্ড বেগে জোয়ারের পানি বাঁধ ভেঙে প্রবেশ করতে থাকায় ভেঙে গেছে ঘরবাড়ি এবং দোকানপাট। অনেকেই শেষ সম্বল নিয়ে ছুটছেন আশ্রয় কেন্দ্রের উদ্দেশে। সবার মনে বিরাজ করছে আতঙ্ক।
এদিকে চট্টগ্রামে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে সকাল থেকেই দমকা হাওয়া বইছে এবং গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করছে। ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় নগরের ১৩টি ওয়ার্ডে ৬০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ। প্রস্তুত রাখা হয়েছে চিকিৎসক দল ও স্বেচ্ছাসেবীদেরও।
আনসার নামে এক জেলে বলেন, ‘এমন জোয়ার আগে কখনও দেখিনি। সকাল থেকেই জোয়ারের পানিতে আমাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যেতে থাকে চোখের সামনেই। এখন জোয়ারের পানি কমেছে, কিন্তু আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।’
সেলিম নামে এক স্থানীয় জেলেবলেন, ‘আমার ঘর পানিতে বাড়ি ভেসে গেছে। রাতে কই থাকবো, কি খাবো তা কিছুই জানিনা। এখন পর্যন্ত কেউ সাহায্য করতে আসেনি। সাহায্য সহযোগিতা না পেলে আমরা ভাতে মরবো। অসহায়ের মতো নিজের ভেঙে যাওয়া ঘর দেখছি শুধু।’
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সমুদ্রের উপকূলীয় উপজেলাগুলোয় প্রায় এক হাজার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের মূল কেন্দ্রটির ওডিশার উপকূল অতিক্রম করছে। পুরো ঝড় ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে বিকেল গড়িয়ে যেতে পারে। এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৮৪ কিলোমিটারের মধ্যে গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইয়াসের কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ০৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহমদ বলেন, ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও পূর্ণিমার প্রভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের উপকূলবর্তী জেলাসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৬ ফুট অধিক উচ্চতার জোয়ারে প্লাবিত হতে পারে।’
Print This Post
