মাজারের পুকুরের কাছিম ও রাক্ষুসে মাছের আক্রমণেই শিশুটির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২৭ এপ্রিল, ২০২১ মঙ্গলবার ১১:৫০ পিএম

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি মাজারের পুকুর থেকে উদ্ধারকৃত খন্ডিত লাশটি নূর আলম নামের নয় বছরের এক শিশুর। লাশ উদ্ধারের পর শিশুটির মা হেনা বেগম পরিচয় শনাক্ত করেন।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে মাথার খুলি এবং সন্ধ্যার দিকে পা দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত নূর আলমের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়। তার বাবার নাম নুর মোহম্মদ। মা-বাবার সঙ্গে সে চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামির মাজার এলাকা সংলগ্ন ডাক্তার কামালের ভাড়া বাসায় থাকত। সোমবার দুপুর থেকে নিখোঁজের পর রাতে তার মা হেনা বেগম বায়েজিদ বোস্তামি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে সোমবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী পুকুরে ছোট ছোট পাথরের টুকরো ছুড়ে মেরে খেলছিল শিশুটি। এক পর্যায়ে পুকুরে পড়ে যায়।

লাশ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এতে দেখা গেছে সোমবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী পুকুরে ছোট ছোট পাথরের টুকরো ছুড়ে মেরে খেলছিল শিশুটি। এক পর্যায়ে পুকুরে পড়ে যায়। এসময় নূর আলম কাছিম ও রাক্ষুসে মাছের আক্রমণের শিকার হয়। এই আক্রমণে তার মাথা থেকে শরীরের বাকি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে তার মাংস কাছিম ও মাছগুলোর খাবারে পরিণত হয়।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি-উত্তর) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘মাজারের পুকুরটিতে বিশাল আকৃতির অনেকগুলো কাছিম আছে। যেগুলোর একেকটির ওজন প্রায় ২০-৩০ কেজি। মাজারের খাদেমরা সেগুলো গজারি-মাদারি বলেন। এছাড়াও আছে পাঙ্গাসসহ বেশকিছু রাক্ষুসে প্রজাতির মাছ। কাছিম ও মাছগুলোর মাংসের প্রতি তীব্র আকর্ষণ আছে।’

‘তাই খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যাওয়ার পর নূর আলম কাছিম ও রাক্ষুসে মাছের আক্রমণের শিকার হয়। এই আক্রমণে তার মাথা থেকে শরীরের বাকি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে তার মাংস কাছিম ও মাছগুলোর খাবারে পরিণত হয়।’—যোগ করেন এডিসি আবু বকর।

উদ্ধার হওয়া লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় বায়েজিদ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিএস/আরএইচ

Print This Post