গুলশানের ফ্ল্যাট থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, বসুন্ধরা গ্রুপের এমডির বিরুদ্ধে মামলা

সিএস ডেস্ক | আপডেট : ২৭ এপ্রিল, ২০২১ মঙ্গলবার ০৭:০২ পিএম

রাজধানীর শুলশান এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে সোমবার রাতে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মুসরাত জাহান মুনিয়া (২১) কুমিল্লার মনোহরপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমানের মেয়ে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বোন নুসরাত জাহান রাত দেড়টার দিকে ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় গ্রুপ বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর ইউএনবির।

গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন মুনিয়া। তার পরিবার বাস করে কুমিল্লা শহরে। গুলশানের ওই ফ্ল্যাটে বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরে প্রায়শই যাওয়া-আসা করতেন, যিনি কিনা গ্রুপটির চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের ছেলে।

পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মুনিয়া রোববার তার বড় বোনকে ফোন করে বলেছিলেন তিনি ঝামেলায় পড়েছেন। যেকোনো মুহূর্তে তার যেকোনো ঘটনা ঘটতে পারে।

এ কথা শুনে নুসরাত সোমবার কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসে সন্ধ্যার দিকে ওই ফ্ল্যাটে যান। দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলেও বোন মুনিয়া দরজা খুলছিলেন না। পরে দরজা ভেঙেই ভেতর ঢুকে শোবার ঘরে তার বোনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান নুসরাত। এ অবস্থায় বাড়িওয়ালাকে খবর দিলে তিনি পুলিশকে ফোন করেন।

গুলশান জোনের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাংবাদিকদের জানান, সোমবার সন্ধ্যার দিকে গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কের ফ্ল্যাট থেকে ফ্যানের সঙ্গে ওই তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।

মামলার বরাত দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মেয়েটির সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের সম্পর্ক দুবছরের। এক বছর মেয়েটিকে তিনি বনানীর ফ্ল্যাটে রাখেন। পরে আনভীরের সঙ্গে মনোমালিন্য হলে ওই তরুণী কুমিল্লায় চলে যান।

মার্চ মাসে আবারও ঢাকায় এসে মুনিয়া গুলশানের ওই ফ্ল্যাটে থাকা শুরু করেন। ওই ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া এক লাখ টাকা। অগ্রিম দেওয়া হয়েছে দুই লাখ। এরই মধ্যে দুই মাসের ভাড়াও পরিশোধ করা হয়েছে।

তিনি জানান, ২৩ এপ্রিল একটি ইফতার পার্টি হয় ওই বাসায়। ওই পার্টির ছবি ফেসবুকে আপলোড করা হলে মেয়েটির সঙ্গে আনভীরের মনোমালিন্য হয়।

উপকমিশনার সুদীপ বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ হাতে এলে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুত্ব বিবেচেনায় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলার তদন্ত করছেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসবে।

সিএস

Print This Post