নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ১৬ এপ্রিল, ২০২১ শুক্রবার ০৫:০৬ পিএম
লকডাউন চলাকালেই তিন মাসের ঘর ভাড়ার বকেয়া টাকা এবং পাওনা টাকা দিতে না পারায় ঘরে তালা দিয়ে ভাড়াটিয়াকে বের করে দিয়েছেন জমিদার। তাই বাধ্য হয়েই নারী-শিশুসহ পুরো পরিবারবের রাত কাটাতে হয়েছে ফুটপাতে।— এমন ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের লালখান বাজারে।
বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সকালে দুবাই কলোনি মোস্তফার বাড়ি থেকে ছোটবাচ্চাসহ পরিবারকে বের করে দেয় জমিদার।
ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য শ্রীধাম দেবনাথ বলেন, ‘বড় ভাই, বৃদ্ধা মা, বৌদি ও দুই ভাইপোকে নিয়ে কলোনির একটি বাসায় দীর্ঘদিন ধরে আমরা বসবাস করে আসছি। আমার বড় ভাই চট্টগ্রাম ওয়াসায় চুক্তিভিত্তিক চাকরি করতেন। সেই সুবাদে বাসার মালিক মো. মোস্তফা মোটর বসানোর জন্য আমার ভাইকে ৩০ হাজার টাকা দেন। সেই টাকা ওয়াসার জনৈক কর্মচারীকে দিয়ে আমার ভাই মোটর বসানোর অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এরই মধ্যে তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেই কাজ করা যায়নি। এদিকে আমার ভাই কয়েকবার ধরনা দিয়েও টাকা ফেরত আনতে পারেননি। তাই প্রতিনিয়ত পাওনা টাকা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করছিল বাড়ির মালিক।’
তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলে আমার ভাইও কর্মহীন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে তিন মাসের বাসা ভাড়া ২১ হাজার টাকা বকেয়া পড়ে যায়। আমি টিউশনি করে টানাপোড়েনের সংসারে কিছু টাকা দিতাম। কিন্তু তাও এখন বন্ধ।’
‘সবমিলিয়ে বাড়িওয়ালার পাওনা টাকা শোধ করার মত সামর্থ্য ছিল না। আমার ভাই কাজের সন্ধানে বাইরে আছেন। এই অবস্থায় মালিক ঘরে তালা দিয়েছেন। যার ফলে বাধ্য হয়ে বৃদ্ধা মা, বৌদি ও দুই ভাইপোকে নিয়ে সারাদিন ঘরের সামনে অবস্থান করলেও জমিদারের মন গলেনি। তাই বাধ্য হয়ে সারারাত ওয়াসা মোড়ের ফুটপাতে বসে ছিলাম।’— যোগ করেন তিনি।
শ্রীধাম দেবনাথ বলেন ‘শেষমেশ আজ (শুক্রবার) সকালে পুলিশের এডিসি ফোনে বিষয়টি জেনে পুলিশ পাঠিয়ে দুপুর ১২টার দিকে আমাদেরকে বাসায় তুলে দেন।’
এদিকে কয়েকদফা যোগাযোগের চেষ্টা করেও বাড়িওয়ালা মো. মোস্তফার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে লালখান বাজারের ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল বলেন, ‘এর আগেও বাড়িওয়ালা মোস্তফার নালিশ নিয়ে অনেকেই আমার কাছে এসেছেন। সে খুবই অত্যাচারী। আশেপাশের মানুষও তার জ্বালায় অতিষ্ঠ। তবে এই পরিবারের কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। তবে, অঅভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (উত্তর) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘করোনাকালে এমন অমানবিকতা মেনে নিতে পারিনি। তাই বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই যত দ্রুত সম্ভব ওই পরিবারকে ঘরে তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। খুলশী থানা পুলিশ মধ্যস্ততা করছে। কিস্তিতে বকেয়া ভাড়ার টাকা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছে পরিবারটিকে।’
তিনি বলেন, ‘ভাড়া বাকি থাকতেই পারে। তাই বলে এভাবে ঘর থেকে বের করে দেওয়া উচিত হয়নি। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে ব্যাপারে বাসার মালিককে সতর্ক করা হয়েছে।’
রবিউল হোসেন রবি/বিএন/সিএস
Print This Post
