বাঁশখালী উপজেলা

ছনুয়া সৈকতে ‘নাছির সিন্ডিকেটের’ কাছে জিম্মি পর্যটকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২০ মার্চ, ২০২১ শনিবার ১২:৫০ পিএম

চট্টগ্রাম শহর থেকে একটু প্রশান্তির জন্যে বন্ধুবান্ধব মিলে বাঁশখালীর ছনুয়া সমুদ্র সৈকত ভ্রমণে গিয়েছিলেন মো. আবদুল লতিফ। কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করতেই এসে হাজির জেটিঘাটের ইজারাদার নাছির উদ্দিন। তার দাবি, সেখানে ভ্রমণের জন্য দিতে হবে জনপ্রতি ১০ টাকা চাঁদা। এমনকি চাঁদা না দিলে তাকে বেঁধে রাখার হুমকিও দেন ওই ব্যক্তি।

ভ্রমণে যাওয়া পর্যটক আবদুল লতিফ বলেন, ‘আমি সহ ১০-১২ জন বন্ধু মিলে ছনুয়া সাগরপাড়ে ঘুরতে যাই। ঘুরাঘুরির এক পর্যায়ে ছনুয়া জেটিঘাটের ইজারাদার নাছির উদ্দিন আমাদেরকে বলেন— ’এখানে ঘুরাঘুরি করতে গেলে জনপ্রতি ১০ টাকা করে দিতে হবে।’

‘এসময় আমি তাকে বলি আমরা তো জেটিঘাটের উপরে উঠিনি। চরে ঘোরাঘুরি করছি। চরে ঘোরাঘুরি করলে টাকা দিতে হবে কেন?’

এমন প্রশ্নে নাছির আমাদেরকে বলেন, ‘এটা আমি সরকারের কাছ থেকে কিনে নিয়েছি। জেটির উত্তরে ৩০০ ফুট, আর দক্ষিণে ৩০০ ফুট জায়গা আমি কিনে নিয়েছি।’

ওই পর্যটক আরও বলেন, ‘আমরা যখন চলে যেতে চাই, তখন নাছির মেম্বার বলেন, ‘হডে যঅদ্দে, যা চাই। এহন টিআ দি যাবি। টিআ নদিয়েরে ইয়ত্তুন লরিত ন পারিবি। (কোথায় যাচ্ছিস? যা দেখি? এখন টাকা দিয়ে যাবি। টাকা না দিয়ে এখান থেকে নড়তে পারবিনা।)’

তিনি বলেন, ‘তার এমন কথায় আমরা হতবিহ্বল হয়ে পড়ি। তিনি আমাদেরকে প্রায় আধা ঘন্টা জিম্মি করে রাখার পর ৩০ টাকা আদায় করে ছেড়ে দেন।’

শুধু আবদুল লতিফ নয়, এভাবে আরও ১০-১৫ জন পর্যটককে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে নাছির মেম্বারের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, ছনুয়া মনুমিয়াজী জেটিঘাটে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ, শুক্রবার (১৯ মার্চ) সাগরপাড়ে ঘুরাঘুরি করার সময় পর্যটকদের জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে।

অপরদিকে ইজারাদার নাছির উদ্দিন ছনুয়া মনুমিয়াজী জেটিঘাটের দুই পাশে ৩০০ ফুট জায়গা সরকারের কাছ থেকে কিনেছে দাবি করলেও ৩০০ ফুটের মধ্যে কোন সীমানা রেখা কিংবা চিহ্ন দেওয়া হয়নি।

মোহাম্মদ তাজমির নামের আরেক পর্যটক বলেন, ‘আমরা ১০-১২জন মিলে ছনুয়া সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে যাই। প্রথমে আমরা ঘাটে উঠতে চাইলে টাকা দিতে হবে বলে তাড়িয়ে দেয়।।পরে আমরা এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরির পর একজন জেলের নৌকা ভাড়া করে সাগরে ঘুরি কয়েকজন।’

তিনি বলেন, ‘তারপর চলে আসার সময় নাছির নামের একজন আমাদের কাছ থেকে টাকা দাবি করে। উনি নাকি জেটির পাশাপাশি ৬০০ ফুট জায়গা সরকার থেকে কিনে নিয়েছেন। তাই ওই এরিয়ার মধ্যে যদি কেউ সাগরে নামে বা নৌকায় ওঠা নামা করে সেটা যার নৌকা হউক না কেন তাঁদের টাকা দিতে হবে।’

‘এখানে যদি ঘুরতে আসা মানুষদের এভাবে হয়রানি করা হয়, তবে ভবিষ্যতে কোনো মানুষ এখানে আসতে চাইবে না। সুতরাং, প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি এই অত্যাচারি ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’— যোগ করেন তাজমির।

এদিকে শুক্রবার (১৯ মার্চ) পর্যটকদের জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। সচেতন মহল এই বিষয়টির তীব্র নিন্দাও জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ছনুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিল্লুল করিম শরীফি বলেন, ‘যেহেতু আমার বাড়ির পাশেই জেটিঘাটের অবস্থান। আমি স্থায়ী জেটিঘাটের জন্য ঢাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে বেশ তদবির করে আসছি। এমতাবস্থায় যাত্রী সেবার পরিবর্তে যাত্রী হয়রানি কোনভাবে কাম্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘যাত্রী আর পর্যটক এক নয়। আমার পরিকল্পনা আছে জেটিঘাট সংলগ্ন এলাকাটা পর্যটন এলাকা হিসাবে পরিণত করার। যদি অল্পতেই কেউ পর্যটক হয়ে দেখতে যায় আর তাতে যদি এই রকম আচরণ করে থাকে সত্যিই তা নিন্দনীয়।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাছির উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার কাছে সরকারি কাগজ আছে। এটা আমি সরকারের কাছ থেকে কিনে নিয়েছি।’

পর্যটকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোমেনা আক্তার বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনও আমি পাইনি। এ ধরনের চাঁদা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি যেহেতু জানিয়েছেন, আমরা বিষয়টি দেখছি।’

এমবিইউ/আরএইচ/সিএস

Print This Post